ইংল্যান্ড সফর চলাকালীন খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা ও আচরণ নিয়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পিসিবির এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে এই পুরো বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
যদিও পিসিবির বিবৃতিতে বিষয়টিকে কেবল ‘শৃঙ্খলাজনিত তদন্ত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে নেপথ্যের ঘটনা নিয়ে বেশ রহস্য দানা বেঁধেছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, পিসিবি সম্প্রতি কয়েকজন ক্রিকেটারের মোবাইল ফোন জব্দ করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে বিষয়টি দুর্নীতিবিরোধী কোনো তদন্তের অংশ কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ২০১০ সালের ইংল্যান্ড সফরে কুখ্যাত স্পট-ফিক্সিং কাণ্ডের কারণে তিন পাকিস্তানি খেলোয়াড়কে নিষিদ্ধ হতে হয়েছিল, যা ক্রিকেট বিশ্বে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
পিসিবির মুখপাত্র আমির মীর জানিয়েছেন, পিসিবির নিয়ম অনুযায়ী এবং যথাযথ প্রক্রিয়া মেনেই এই তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকলকে তাদের বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, মিডিয়াতে তথ্য ফাঁসের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই খেলোয়াড়দের হ্যান্ডসেটগুলো জব্দ করা হয়েছে।
আমির মীর আরও বলেন, এই মুহূর্তে কোনো ধরনের অনুমাননির্ভর খবর বা যাচাইহীন দাবিকে বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই, বিশেষ করে যেসব খবর বাইরের কোনো বিদ্বেষী উৎস থেকে ছড়ানো হচ্ছে। পিসিবি এই বিষয়ে আপাতত আর কোনো মন্তব্য করবে না এবং সবাইকে বোর্ডের অফিসিয়াল তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ইমাম-উল-হক, আলী ওসমান, খুররম শাহজাদ, আমির জামাল এবং মুহাম্মদ ওয়াইস জাফরকে ইউকে থেকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। একই সাথে কয়েকজন কোচকেও বরখাস্ত করা হয়েছে এবং নতুন কোচিং স্টাফ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে তৃতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

