যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর স্বাধীন সংবাদপত্র ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর প্রধান সম্পাদক এরিক স্লাভিনকে বরখাস্ত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন। একটি সাক্ষাৎকারে সম্ভাব্য সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে মন্তব্য করার জেরে গত ২১ আগস্ট তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
কেবল প্রধান সম্পাদকই নন, পেন্টাগন এই সংবাদপত্রের প্রকাশক ম্যাক্স লেডারার এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদদাতা লারা কর্টেকেও বরখাস্ত করেছে। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে সিবিএস নিউজ বেনামী সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল যে, পেন্টাগন লেডারারকে বরখাস্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
স্লাভিন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এবং দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন, সিবিএস-এর দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে সেন্সরশিপকে তিনি ‘লক্ষণরেখা’ (রেড লাইন) হিসেবে উল্লেখ করার পর তাঁকে ‘অবাধ্যতার’ অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়। সাক্ষাৎকারে তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, সংবাদপত্রটির সম্পাদকীয় স্বাধীনতা বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে, বরখাস্ত হওয়া রিপোর্টার লারা কর্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানান, সিবিএস-এর এক সাংবাদিককে তিনি বলেছিলেন, "আমি স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস-এর জন্য কাজ করি—পেন্টাগন, কোনো প্রশাসন কিংবা কোনো নীতিনির্ধারকের জন্য নয়।" এই মন্তব্যের পরই তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।
এই বরখাস্তের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যার মাত্র কয়েক মাস আগেই পেন্টাগন পত্রিকাটির ওম্বুডসম্যানকে অপসারণ করেছিল। সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ১৯৯১ সালে মার্কিন কংগ্রেস এই ওম্বুডসম্যান পদটি তৈরি করেছিল।
এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব। ক্লাবের সভাপতি মার্ক শফ জুনিয়র স্লাভিনের বরখাস্তকে "সামরিক বাহিনীর সংবাদ কভারেজ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য পেন্টাগনের আরেকটি নির্লজ্জ প্রচেষ্টা" বলে অভিহিত করেছেন এবং এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস-এর সম্পাদককে বরখাস্ত করার মাধ্যমে পেন্টাগন নেতৃত্ব পরিষ্কার করে দিল যে, তারা এই সংবাদকক্ষকে মার্কিন সেনাদের কল্যাণে নিয়োজিত কোনো স্বাধীন মাধ্যম হিসেবে দেখতে চায় না, বরং পেন্টাগনের মুখপাত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।"
ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশন (ফায়ার)-এর আইনি পরিচালক উইল ক্রিলি এই ঘটনাকে "মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর একটি কুৎসিত ও অ-আমেরিকান হামলা" বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমেরিকার সাহসী সেনাসদস্যরা সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়েছেন। ২৫০ বছর আগে আমাদের প্রতিষ্ঠাতারা যে মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য লড়াই করেছিলেন, তারা সেটি পাওয়ার যোগ্য; প্রাভদা-স্টাইলের প্রোপাগান্ডা নয়। সেন্সরশিপ মেনে নেওয়া মানে আমাদের জাতীয় পরিচয় হারিয়ে ফেলা।" এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

