সেলিব্রিটি ব্লগার পেরেজ হিলটন বর্তমানে ফ্লোরিডার বেকার অ্যাক্টের অধীনে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ৮ আগস্ট তার পরিবার এক আপডেটে জানিয়েছে যে, ৪৮ বছর বয়সী হিলটন বর্তমানে গুরুতর কিন্তু স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হিলটন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রক্তক্ষরণের শিকার হয়েছেন এবং তার শরীরে এমন কিছু আঘাত রয়েছে যার জন্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাকে অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তার সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াটি বেশ দীর্ঘ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে হিলটনের যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত সীমিত। তিনি কেবল তার নিকটাত্মীয়, চিকিৎসা প্রদানকারী এবং তার সেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গেই যোগাযোগ করতে পারছেন। পরিবারের ভাষ্যমতে, তিনি এখন পর্যন্ত গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি বা কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি।
শুক্রবার হিলটন তার মা ও বোনের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন। এর আগে তার পরিবার জানিয়েছিল যে, চিকিৎসার পাশাপাশি তিনি যোগাযোগ করতে পারছেন, যা তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
গত ৪ আগস্ট মিয়ামি-ডেড শেরিফ অফিসের কাছে একাধিক কল আসার পর হিলটনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শেরিফ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, হিলটন সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ স্ট্রিমিংয়ের সময় নিজের ক্ষতি করার চেষ্টা করছিলেন। পুলিশ তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠায়। অনলাইনে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল যেখানে হিলটনকে রক্তমাখা অবস্থায় এবং যন্ত্রণাকাতর দেখাচ্ছিল, যদিও সেই ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
তার পরিবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, হিলটনের শারীরিক অবস্থা বা ঘটনার পরিস্থিতি নিয়ে ইন্টারনেটে অনেক ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। তারা জনসাধারণকে অনুরোধ করেছে যেন শুধুমাত্র PerezHilton.com-এ প্রকাশিত তথ্যকেই নির্ভরযোগ্য বলে গণ্য করা হয়। একই সঙ্গে, কঠিন এই সময়ে তারা গণমাধ্যম ও জনসাধারণের কাছে গোপনীয়তা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের মার্চ মাসেও হিলটন গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন। তখন আলসার, ছিদ্র এবং সেপসিসের কারণে তাকে কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে কাটাতে হয়েছিল এবং ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচার করতে হয়েছিল। এরপর তিনি তার মা এবং তিন সন্তান—মারিও আরমান্দো লাভান্দেইরা তৃতীয় (১৩), মিয়া আলমা (১১) এবং মাইতে আমোর (৮)—এর সঙ্গে মিয়ামিতে ফিরে আসেন। পেরেজ হিলটনের প্রকৃত নাম মারিও লাভান্দেইরা জুনিয়র। ২০০৪ সালে তিনি তার সেলিব্রিটি গসিপ ওয়েবসাইটটি চালু করেছিলেন, যা হলিউড তারকাদের খবরের জন্য পরিচিতি পায়।

