নাসার তথ্য অনুযায়ী, বছরের অন্যতম প্রতীক্ষিত মহাজাগতিক ঘটনা পার্সেইড উল্কাবৃষ্টি খুব শীঘ্রই তার চরম পর্যায়ে পৌঁছাতে যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আকাশ পর্যবেক্ষকরা এই অপরূপ প্রদর্শনী উপভোগ করার চমৎকার সুযোগ পাবেন। আমেরিকান মেটিওর সোসাইটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১২ ও ১৩ আগস্টের রাতে এই উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ সক্রিয়তা দেখা যাবে। উত্তর গোলার্ধের উষ্ণ আগস্টের রাতগুলোয় এই উল্কাবৃষ্টি দেখা যায় বলে এটি আকাশ পর্যবেক্ষকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। আর্থস্কাই-এর মতে, সাধারণত রাতের বেলা উল্কার সক্রিয়তা বাড়তে থাকে এবং ভোর হওয়ার আগের সময়টিতে এর মাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে।
পার্সেইড উল্কাবৃষ্টির এই সক্রিয়তা ১৭ জুলাই থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত বজায় থাকবে। ১২ আগস্ট রাত থেকে ১৩ আগস্ট ভোর পর্যন্ত উল্কার সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে শিখরে পৌঁছাবে। এ বছর নতুন চাঁদের অন্ধকার রাত থাকায় উল্কাবৃষ্টি দেখার পরিবেশ অত্যন্ত অনুকূল থাকবে। উল্কাবৃষ্টির রেডিয়েন্ট বা যে বিন্দু থেকে উল্কাগুলো নির্গত হয় বলে মনে হয়, তা দিগন্তের উপরে সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকে ভোর হওয়ার আগের কয়েক ঘণ্টায়। তাই শুটিং স্টার বা উল্কা দেখার সেরা সুযোগ পেতে ওই সময়ে বাইরে বের হওয়া সবচেয়ে ভালো। অন্ধকার গ্রামীন এলাকায় পর্যবেক্ষকরা প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৩০ থেকে ৫০টি উল্কা দেখতে পেতে পারেন।
উল্কা মূলত ধূমকেতু ও ভেঙে পড়া গ্রহাণুর অবশিষ্টাংশ থেকে তৈরি হয়। ধূমকেতু যখন সূর্যের চারপাশ দিয়ে প্রদক্ষিণ করে, তখন তারা ধুলিকণা ত্যাগ করে, যা তাদের কক্ষপথ বরাবর পথ তৈরি করে। নাসা জানায়, প্রতি বছর পৃথিবী যখন এই ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে, তখন কণাগুলো বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে জ্বলে ওঠে। এতেই রাতে আকাশে উজ্জ্বল ও রঙিন আলোর রেখা দেখা যায়।
পার্সেইড উল্কাবৃষ্টি মূলত সুইফট-টাটল ধূমকেতু থেকে উদ্ভূত হয়েছে। ১৮৬২ সালে আমেরিকান জ্যোতির্বিজ্ঞানী লুইস সুইফট এবং হোরাস টাটল এই ধূমকেতুটি আবিষ্কার করেন। ১০৯পি/সুইফট-টাটল ধূমকেতুর সূর্যের চারপাশ একবার ঘুরে আসতে প্রায় ১৩৩ বছর সময় লাগে।

