জাপানের ভবিষ্যৎ সম্রাট হিসেবে ক্রমশ আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসা প্রিন্স হিসাহিতো ২০ বছরে পা দিয়েছেন। দেশটির পুরুষ-অনুকূল রাজকীয় উত্তরাধিকার আইনকে আরও জোরদার করতে সরকারের বিতর্কিত সংশোধনের পর রবিবার তার এই জন্মদিনটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
সম্রাট নারুহিতোর ভাতিজা হিসাহিতো বর্তমানে জাপানের ১,৫০০ বছরের পুরোনো 'ক্রিস্যান্থেমাম থ্রোন' বা চন্দ্রমল্লিকা সিংহাসনের দ্বিতীয় উত্তরাধিকারী। দ্রুত সংকুচিত ও বার্ধক্যের দিকে ধাবিত হওয়া ১৬ সদস্যের জাপানি রাজপরিবারের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে তরুণ সদস্য। শৈশবে পশু-পাখি ও পোকামাকড়, বিশেষ করে ফড়িং ভালোবাসতেন হিসাহিতো। তিনি এখন টোকিওর কাছে সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সাথে সাইকেলে চড়ে ঘুরে বেড়ানো কিংবা পোকামাকড় ধরার জাল হাতে তাকে প্রায়ই দেখা যায়।
পড়াশোনায় মগ্ন থাকার পাশাপাশি হিসাহিতো সম্প্রতি কিছু রাজকীয় দায়িত্বও পালন শুরু করেছেন। গত মে মাসে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের সম্মানে আয়োজিত রাজকীয় ভোজসভায় তিনি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আগস্ট মাসে তিনি হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি শহরে কিশোরদের একটি ক্যাম্পে অংশ নেন।
গত জুলাই মাসে জাপানের পার্লামেন্টে পাস হওয়া সংশোধিত উত্তরাধিকার আইনে অত্যন্ত দূরবর্তী সাবেক রাজপরিবার থেকে পুরুষ সন্তান দত্তক নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, কোনো নারী সদস্য সাধারণ নাগরিককে বিয়ে করলেও তার রাজকীয় মর্যাদা বজায় থাকবে, যাতে তারা রাজকীয় দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে পারেন। তবে তাদের স্বামী বা সন্তানরা রাজপরিবারের সদস্য হতে পারবেন না।
ঊনবিংশ শতাব্দীর এই আইনের সংশোধনকে রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সমর্থনপুষ্ট বলে মনে করা হয়। তবে সাধারণ জাপানিদের একটি বড় অংশ এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। আন্দোলনকারীদের মতে, এই পরিবর্তনটি মূলত রাজকুমারী আইকোকে সিংহাসনে বসা থেকে দূরে রাখার এবং সমাজে পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নারীর প্রতি বৈষম্য বজায় রাখার একটি প্রচেষ্টা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজপরিবারের ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখতে হিসাহিতো এবং তার হবু স্ত্রীর ওপর একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য প্রচণ্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি হবে।
গত বছর নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ভবিষ্যৎ ও বিয়ে নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হিসাহিতো জানান, তার মূল মনোযোগ এখন পড়াশোনায়। নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সাথে মেলামেশার জন্য তিনি বিদেশে কিছু সময় কাটানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, "বিয়ে নিয়ে এখনো কোনো উপযুক্ত সময় বা জীবনসঙ্গীর কথা আমি ভাবিনি।"

