ইংল্যান্ড লায়ন্সের কোচ অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে আগাম ছুটি নিয়ে ওঠা সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) ম্যানেজিং ডিরেক্টর রব কি। বিগ ব্যাশ লিগে কোচিং করানোর জন্য ফ্লিনটফের এই সফর থেকে বেরিয়ে আসাকে কেন্দ্র করে যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে, তাকে 'অসম্মানজনক' বলে অভিহিত করেছেন কি। তিনি ফ্লিনটফকে একজন 'আনসাং হিরো' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কি বলেন, "অনেক তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, তাদের জন্য টি১০, টি২০, আইএলটি২০ ও এসএ২০-এর মতো লিগের ভিড়ে লাল বলের ক্রিকেটে মনোযোগ দেওয়া কঠিন। আমাদের তাদের বলতে হয়, আমরা চাই তোমরা অস্ট্রেলিয়ার লাল বলের সফরে আসো, আমরা চাই তোমরা আবুধাবিতে ৫০-ওভারের ক্রিকেট খেলো।"
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ডের 'এ' দল বা লায়ন্সের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ফ্লিনটফ। কি বলেন, ফ্লিনটফের কোচিংয়ে সনি বেকার ও মিচ স্ট্যানলির মতো অনেক তরুণ খেলোয়াড় উপকৃত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, ফ্লিনটফকে লায়ন্সের কোচ হিসেবে পাওয়াটা ইংল্যান্ড ক্রিকেটের জন্য এক পরম সৌভাগ্যের বিষয়।
ফ্লিনটফকে ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ না করায় যারা সমালোচনার আঙুল তুলেছেন, তাদের কঠোর সমালোচনা করেছেন রব কি। তিনি বলেন, "এটা কখনোই এমন ছিল না যে লায়ন্স কোচ সরাসরি ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ হয়ে যায়। সম্ভবত ২০০৭ সালে পিটার মুরসের ক্ষেত্রে এমনটা হয়েছিল। ব্যাস, এটুকুই।" তার মতে, লায়ন্সের কোচ মানেই যে তাকে পরবর্তীতে জাতীয় দলের প্রধান কোচ হতে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই।
রব কি আরও বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরটি মূলত ইসিবি এবং ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার একটি পারস্পরিক চুক্তির অংশ, যেখানে এই গ্রীষ্মে দক্ষিণ আফ্রিকা 'এ' দল উভয় চার দিনের ম্যাচে আট উইকেটে জয়ী হয় এবং ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়লাভ করে। কি লর্ডসে ফ্লেমিং ও জো রুটের নিয়োগের পর কথা বলার সময় জানান, গত ১০ টেস্টে মাত্র দুই জয়ের পর ইসিবি সেরা দুজনকে খুঁজে পেয়েছে। ইংল্যান্ড তাদের তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করবে, যা ১৯ আগস্ট হেডিংলিতে শুরু হবে।
নিজের অবস্থান প্রসঙ্গে কি স্বীকার করেন যে, দায়িত্ব পালনের সময় সবসময় এক ধরনের চাপের মধ্যে থাকতে হয়। তবে তিনি বিশ্বাস করেন যে, ইংল্যান্ড ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনিই সঠিক ব্যক্তি।

