২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকে পেছনে ফেলে বার্সেলোনার স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রিকে নিজের ফেভারিট হিসেবে বেছে নিয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ইংলিশ ফরোয়ার্ড টেডি শেরিংহাম। কেইনের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দুর্দান্ত হওয়া সত্ত্বেও শেরিংহাম মনে করেন, বড় কোনো শিরোপা জিততে না পারায় এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের দৌড়ে পিছিয়ে থাকবেন বায়ার্ন মিউনিখের এই গোলমেশিন।
সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে অসাধারণ পারফর্ম করেছেন হ্যারি কেইন। ভিনসেন্ট কোম্পানির অধীনে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫১ ম্যাচে ৬১টি গোল করেছেন তিনি, যেখানে বায়ার্ন ঘরে তুলেছে ঘরোয়া ট্রেবল। এরপর উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে ৭টি গোল করেন কেইন। সেই বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল ইংলিশরা।
অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ঘরোয়া কাপের ডাবল জেতার পর স্পেনের অধিনায়ক হিসেবে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে শিরোপা উঁচিয়ে ধরেন রদ্রি। টুর্নামেন্টের সবকটি (৮টি) ম্যাচেই মাঠে ছিলেন তিনি। চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদলে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া এই মিডফিল্ডার সম্পর্কে শেরিংহাম টকস্পোর্টকে বলেন, সে একজন সত্যিকারের নেতা। সাধারণত তার দল প্রতি সপ্তাহেই জয় পায়—তা ম্যানচেস্টার সিটি হোক বা স্পেন। আমি জানি সে এখন অন্য ক্লাবে চলে গেছে, তবে সে যার হয়েই খেলুক না কেন, তারাই জেতে।
২০২৬ ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় কেইন ও রদ্রি দুজনেই জায়গা পেয়েছেন। তবে কেইনকে ভোট না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে শেরিংহাম বলেন, সে কি আমার ভোট পাবে? আসলে তা নয়। আমি মনে করি সে একটি অসাধারণ মৌসুম কাটিয়েছে, কিন্তু ব্যালন ডি’অর জয়ী সাধারণত তিনিই হন যিনি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা বিশ্বকাপ বা ওই সময়ে বড় কোনো শিরোপা জেতেন। হ্যারি তা করতে পারেনি, তাই আমার কাছে সে কেবলই একজন প্রতিযোগী। হ্যারি, আমি দুঃখিত!
এর আগে ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অরও জিতেছিলেন রদ্রি। সেবার ম্যানচেস্টার সিটিকে টানা চতুর্থ প্রিমিয়ার লিগ জেতানোর পাশাপাশি স্পেনের ইউরো ২০২৪ জয়েও বড় ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।
এদিকে ২০২৬-২৭ মৌসুমেও বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দারুণ সূচনা করেছেন হ্যারি কেইন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫ ম্যাচে ৩টি গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম ম্যাচে ঘরের মাঠে বোডো/গ্লিমটের বিপক্ষে বায়ার্নের ৫-০ ব্যবধানের জয়ে গোল ও অ্যাসিস্ট করেন এই ইংলিশ অধিনায়ক। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি ছিল কেইনের ৫৫তম গোল। মাত্র ৭১ ম্যাচে এই মাইলফলক স্পর্শ করে তিনি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে দ্রুততম ৫৫ গোল করা তৃতীয় খেলোয়াড় হয়েছেন, যেখানে তার সামনে আছেন কেবল আর্লিং হালান্ড (৪৯ ম্যাচ) ও রুড ফন নিস্টেলরয় (৭০ ম্যাচ)। তবে চলতি বুন্দেসলিগার প্রথম দুই ম্যাচে কোনো গোল না পেলেও ডিএফবি-পোকালের এক ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন কেইন।

