২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ান শিক্ষার্থী হিসেবে ডাবলিনে পড়াশোনার সময় স্টেফানি ক্যাসি প্রথমবারের মতো জ্যাকের সাথে পরিচিত হন। ট্রিনিটি কলেজে পড়ার সুবাদে তাদের দেখা হয় ডাবলিনের ও’কনেল স্ট্রিটের স্পায়ারের নিচে। প্রথম সাক্ষাতেই জ্যাকের লাজুক স্বভাব এবং তাদের কথোপকথন স্টেফানিকে মুগ্ধ করেছিল। এরপর থেকে তাদের সম্পর্ক দ্রুত গভীর হতে থাকে। জ্যাক প্রায়ই পিয়ার্স স্ট্রিট স্টেশনে ট্রেনের জানালা থেকে স্টেফানিকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানাতেন। ডাবলিনের কনকনে ঠান্ডায় তারা একসাথে পার্ক ও পাবগুলোতে সময় কাটিয়েছেন, খেয়েছেন স্পাইস ব্যাগ ও ভেজিমাইট।
তবে বছরের শেষে স্টেফানির ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় তাদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। স্টেফানিকে জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া ফিরে যেতে হতো, আর জ্যাকের তখনও ডাবলিনে পড়াশোনার দুই বছর বাকি ছিল। তাদের সম্পর্কের বিষয়টি বন্ধু ও পরিবারের কাছে স্পষ্ট থাকলেও নিজেদের মধ্যে কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছিল না।
স্টেফানি যখন তার ডরমের জিনিসপত্র প্যাকিং করছিলেন, তখন জ্যাক তাকে সাহায্য করছিলেন। সেখানে জ্যাক তার প্রিয় একটি পশমি পাজামা স্টেফানির ব্যাগে ঢুকিয়ে দেন। স্টেফানি বাধা দিলে জ্যাক শান্তভাবে বলেন, "হ্যাঁ, কিন্তু আমি তোমাকে এর চেয়েও বেশি ভালোবাসি।" এই সহজ স্বীকারোক্তিটিই স্টেফানিকে আত্মবিশ্বাস দেয় যে তারা দূরত্ব সত্ত্বেও সম্পর্কটি এগিয়ে নিতে পারবেন।
অস্ট্রেলিয়া ফেরার পর তিন বছর ধরে তাদের সম্পর্ক ফোনের স্ক্রিনের মাধ্যমেই টিকে ছিল। তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। ২০১৭ সালে স্টেফানি ডাবলিন ভ্রমণ করেন, ২০১৮ সালে জ্যাক অস্ট্রেলিয়ায় এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে আসেন এবং ২০১৯ সালে ভিয়েতনামে তাদের দেখা হয়। ২০২০ সালের শুরুতে জ্যাক স্থায়ীভাবে অস্ট্রেলিয়ায় চলে আসেন। পরবর্তীতে তারা বিয়ে করেন এবং ডাবলিনে তাদের প্রথম ডেটের কাছাকাছি স্থানেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে তারা একটি বাড়ি ও পোষা কুকুর নিয়ে সুখী জীবন কাটাচ্ছেন।

