শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ সংক্রান্ত একটি মামলার নিষ্পত্তি করতে মার্কিন সরকারকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৯৩ মিলিয়ন পাউন্ড) পরিশোধ করতে সম্মত হয়েছে টিকটক। শিশুদের গোপনীয়তা রক্ষার ইতিহাসে এটিকে অন্যতম বড় অঙ্কের অর্থ জরিমানা বা নিষ্পত্তি চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
২০০০ সালে কার্যকর হওয়া মার্কিন ফেডারেল আইন ‘চিলড্রেনস অনলাইন প্রাইভেসি প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ (কোপ্পা) লঙ্ঘনের দায়ে টিকটকের বিরুদ্ধে এই মামলাটি করা হয়েছিল। এই একই আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বর্তমানে মেটার বিরুদ্ধেও মামলা লড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের ডজনখানেক অঙ্গরাজ্য। মামলা নিষ্পত্তি প্রসঙ্গে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট শুমেইট বলেন, "এই মামলাটি যখন শুরু হয়েছিল, তার চেয়ে আজকের দিনে শিশুরা এবং তাদের অভিভাবকরা অনেক বেশি সুরক্ষিত।"
যুক্তরাষ্ট্রে কোপ্পা আইন লঙ্ঘনের দায়ে এর আগেও বেশ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা গুণতে হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৯ সালে গুগলের ইউটিউব ১৭০ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২২ সালে এপিক গেমস ২৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিয়েছিল। এছাড়া, বর্তমানে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাও এই আইন লঙ্ঘনের দায়ে বড় ধরনের আইনি জটিলতার মুখোমুখি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের দায়ের করা এই মামলায় মেটার জরিমানা শত শত বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। চলতি সপ্তাহেই এই মামলার জুরি ট্রায়াল শুরু হয়েছে, যেখানে মেটার বিরুদ্ধে শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে মুনাফা লোটার অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত বছর টিকটকের মার্কিন ব্যবসা ও কার্যক্রম চীন থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার আগের ঘটনার সূত্র ধরে এই মামলাটি করা হয়েছিল। তবে এই নিষ্পত্তি চুক্তিটি শুধুমাত্র চীনের টিকটক কার্যক্রমের সাথে সম্পর্কিত। বর্তমানে টিকটকের মূল প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের বাজারমূল্য বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫৫০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। এই চুক্তির অংশ হিসেবে বাইটড্যান্সের পূর্বসূরি প্রতিষ্ঠান ‘মিউজিক্যালি’ (Musical.ly)-কেও কোপ্পা লঙ্ঘনের দায়ে ৫.৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে হয়েছিল এবং ১৩ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সম্মতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছিল।
মার্কিন বিচার বিভাগ গত শুক্রবার টিকটকের বিরুদ্ধে এই জরিমানার বাইরে অন্য কোনো পদক্ষেপের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। তবে বিভাগটি উল্লেখ করেছে যে, মামলা দায়েরের পর থেকে টিকটকের মালিকানা, গোপনীয়তা নীতি এবং তরুণ ব্যবহারকারীদের জন্য প্ল্যাটফর্মের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। মামলাটি যখন প্রথম দায়ের করা হয়েছিল, তখন মার্কিন আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন যে ১৭০ মিলিয়নেরও বেশি কিশোর-কিশোরী টিকটক ব্যবহার করত এবং অ্যাপটি মূলত শিশুদের লক্ষ্য করেই তৈরি করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও, অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের সঠিক বয়স যাচাই করতে কিংবা অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সম্মতি নিতে ব্যর্থ হয়েছিল।
২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন টিকটক নিষিদ্ধ করার অথবা এর মার্কিন কার্যক্রম অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি বা হস্তান্তরের (ডাইভেস্ট) তাগিদ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও অ্যাপটি হস্তান্তরের বিষয়টিতে সমর্থন জানান, যা গত বছর সম্পন্ন হয়। বর্তমানে টিকটকের মার্কিন কার্যক্রমের ৮১ শতাংশ মালিকানা রয়েছে একটি বিনিয়োগকারী কনসোর্টিয়ামের হাতে এবং বাইটড্যান্সের কাছে রয়েছে মাত্র ১৯ শতাংশ শেয়ার। এই নিষ্পত্তি চুক্তির বিষয়ে বিবিসির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে টিকটকের কোনো প্রতিনিধি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

