কানাডা থেকে আমদানিকৃত প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার (২৮ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার) মূল্যের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা থেকে সাময়িকভাবে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্ধারিত সময়সীমা কার্যকর হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টা আগে এই ঘোষণা আসে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, দুই দেশ এখন একটি বাণিজ্য চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে চলতি সপ্তাহে দুইবার আলোচনা হয়েছে। গত জুলাই মাসে ট্রাম্প ১৯ আগস্টের মধ্যে নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের বাণিজ্য আলোচকরা নিবিড়ভাবে কাজ করে আসছেন। এই শুল্ক স্থগিতের সিদ্ধান্ত কানাডার আলোচক এবং উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে এসেছে, যারা সতর্ক করেছিলেন যে নতুন এই শুল্ক ব্যবস্থা উভয় অর্থনীতির জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে।
ট্রাম্পের গত বছরের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দুই প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। তিনি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের একটি বিস্তৃত কর্মসূচি শুরু করলে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক দশকের মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়। প্রস্তাবিত নতুন শুল্কটি মূলত কানাডার স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি এবং কাঠের ওপর বিদ্যমান শুল্কের অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল।
দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু ইস্যুতে মতবিরোধ রয়েছে। এর মধ্যে কানাডার বিভিন্ন প্রদেশের আমেরিকান মদ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অটোমোবাইল খাতের ওপর কানাডার শুল্ক অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্র কানাডার কাছ থেকে বেশ কিছু ছাড় দাবি করেছে, যার মধ্যে রয়েছে আমেরিকান গাড়ির ওপর থেকে অবশিষ্ট প্রতিশোধমূলক শুল্ক প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের পনির উৎপাদকদের জন্য কানাডার ডেইরি কোটা শিথিল করা। এছাড়া ট্রাম্পের শুল্কের প্রতিক্রিয়ায় কানাডার অধিকাংশ প্রদেশ যে আমেরিকান অ্যালকোহল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, তা তুলে নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
তবে শুল্ক হ্রাসের বিষয়টি কোন ধরনের গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে দুই দেশ এখনো একমত হতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্র শুধুমাত্র উচ্চমাত্রার আমেরিকান উপাদানে তৈরি গাড়ির ক্ষেত্রে এই সুবিধা দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এদিকে, কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন প্রকল্প নিয়েও ট্রাম্প তার আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, 'গ্রেট কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন, যা অনেক আগেই স্লিপি জো বাইডেন ধ্বংস করেছিলেন, তা হয়তো কবর থেকে জেগে উঠতে পারে!' উল্লেখ্য, পরিবেশবাদী ও আদিবাসী গোষ্ঠীগুলো এই পাইপলাইনের বিরোধিতা করে আসছে, যা দৈনিক ৮ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল তেল পরিবহনের সক্ষমতা রাখে।

