মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার দেশের বড় বড় তেল কোম্পানিগুলোর প্রতি জ্বালানি তেলের দাম কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, ইরান যুদ্ধের ফলে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই কোম্পানিগুলো অস্বাভাবিক হারে মুনাফা করছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সোমবার ৪ শতাংশের বেশি কমে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৮৪ ডলারে নেমে এলেও, যুদ্ধের আগের তুলনায় তা এখনো অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের দাম ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা যুদ্ধের আগে ছিল প্রায় ৩ ডলার। সিবিএস নিউজের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় অর্ধেক আমেরিকান জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে আর্থিক সংকটে পড়ার কথা জানিয়েছেন এবং প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৮ জনই মনে করেন ট্রাম্প প্রশাসন ভোক্তাদের জন্য দাম কমানোর বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না।
ওভাল অফিসে এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরান সংঘাত শেষ হলে তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমে আসবে। তিনি বিশেষভাবে শেভরন এবং এক্সনমবিল কোম্পানিকে লক্ষ্য করে বলেন, তারা যুদ্ধের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করছে। ট্রাম্প বলেন, 'তারা অনেক বেশি টাকা কামিয়েছে। শেভরন, অনেক বেশি টাকা। এক্সনমবিল, অনেক বেশি। ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে তাদের এখন দাম কমানোর সময় এসেছে।' তিনি আরও যোগ করেন, এক কোম্পানি গত বছরের তুলনায় ১২ গুণ বেশি মুনাফা করেছে, তাদের উচিত জনস্বার্থে খুচরা পর্যায়ে দাম কমিয়ে আনা।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এক্সনমবিল কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি এবং শেভরন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি। এর আগে ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প শেভরনের প্রধান নির্বাহী মাইক ওয়ের্থের সরাসরি সমালোচনা করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসন ও শক্তির কারণেই জ্বালানি শিল্প টিকে আছে, অথচ ওয়ের্থ তা স্বীকার করতে ভুলে গেছেন। ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে, ভেনিজুয়েলা থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে শেভরন লাভবান হচ্ছে, যা কোম্পানিটির মতে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম নির্ধারণে তেল কোম্পানিগুলোর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই। জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, তেলের দামের ৫১ শতাংশ আসে অপরিশোধিত তেল থেকে। এছাড়া পরিবহন ও বিতরণ খরচ ১১ শতাংশ এবং রিফাইনারি বা শোধনাগারের প্রক্রিয়া বাবদ ২০ শতাংশ ব্যয় হয়।

