অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা এবং এসব বসতি সংশ্লিষ্ট পরিষেবার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে তুরস্ক, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে আটটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।
বিবৃতিতে মন্ত্রীরা আশা প্রকাশ করেন যে, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করবে। এছাড়া, অবৈধ বসতি স্থাপনকারী সংগঠন এবং এর সাথে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বানও জানানো হয়।
একই সাথে, কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন, সুইডেন এবং যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জারি করা দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বিষয়ক আরেকটি যৌথ বিবৃতিকেও স্বাগত জানিয়েছেন এই আট দেশের মন্ত্রীরা। ওই ১২টি দেশ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে অথবা নিজ নিজ জাতীয় পদ্ধতি অনুযায়ী তা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।
আট দেশের মন্ত্রীরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই পদক্ষেপগুলোর ওপর ভিত্তি করে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি টিকিয়ে রাখা কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশন ২৩৩৪ ও ১৯ জুলাই ২০২৪ সালের আন্তর্জাতিক আদালতের উপদেষ্টা মতামতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিবৃতিতে ইসরায়েলের বেআইনি দখলদারিত্ব থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতিকে স্বীকৃতি না দেওয়ার এবং এই দখলদারিত্ব বজায় রাখতে কোনো সহায়তা না করার বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সাথে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভৌগোলিক ও জনতাত্ত্বিক চরিত্র পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে ইসরায়েলের নেওয়া সব পদক্ষেপ বাতিলের আহ্বান জানানো হয়।
গাজাকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রীরা ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা পূর্ণ ও দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, এটি নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, মানবিক পরিস্থিতি এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তির ভিত্তি স্থাপনের জন্য জরুরি। এছাড়া, ৪ জুন ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনই যে শান্তির একমাত্র পথ, তা আবারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের সেবাদানকারী যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

