মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট এবং একজন সিনিয়র আইনজীবীর ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি আন্তর্জাতিক অপরাধ যেমন গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার করার এখতিয়ার রাখে। নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জাপানের নাগরিক ও আইসিসি প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে, যিনি ২০২৪ সালে তার তিন বছর মেয়াদী দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সেনেগালের নাগরিক ও আইসিসির সিনিয়র ট্রায়াল আইনজীবী আবদুলায়ে সেয়ে। রুবিও অভিযোগ করেছেন যে, আইসিসি এমন কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করছে যাদের সরকার আদালতের এখতিয়ার স্বীকার করেনি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আইসিসিকে একটি 'দুর্নীতিপরায়ণ ও চরম রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আদালত' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই আদালত তার ম্যান্ডেট অতিক্রম করে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানছে। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও অন্তত ১১ জন আইসিসি কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, যার মধ্যে নয়জন বিচারক এবং প্রধান কৌঁসুলি রয়েছেন। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর সেবার ওপর বিধিনিষেধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আইসিসি এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপের কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। আদালতের মতে, যারা আইসিসির ম্যান্ডেট অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের লক্ষ্যবস্তু বানানো আইনের শাসনের পরিপন্থী এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। আইসিসি স্পষ্ট করেছে যে, তারা তাদের কর্মীদের পাশে আছে এবং এই ধরনের পদক্ষেপ আইনের শাসনকে দুর্বল করে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত এবং গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে শীর্ষ ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র কেউই আইসিসির সদস্য নয়, তবে ফিলিস্তিন ২০১৫ সালে সদস্যপদ লাভ করায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অপরাধের তদন্তের সুযোগ তৈরি হয়।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইসিসির ১২৫টি সদস্য দেশকে আদালত থেকে সরে আসার আহ্বান জানানো হয়, যাতে এটিকে 'ইট দিয়ে গড়া দেয়াল ভাঙার মতো' ধাপে ধাপে নির্মূল করা যায়। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে একে আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করার প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ চারটি মার্কিন মানবাধিকার সংগঠন এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে মামলা করেছে। এছাড়া, গত জুনে তিনজন আইসিসি বিচারকও মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন, যেখানে তারা নিষেধাজ্ঞাকে বেআইনি এবং অতিরিক্ত বিচারিক চাপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

