যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন বিমান হামলার যে অভিযোগ উঠেছে, ওয়াশিংটন তা তদন্ত করছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, মার্কিন বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে কখনোই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না।
ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে নিজের চরম সংশয় প্রকাশ করে ভ্যান্স বলেন, তাকে তদন্তের বিষয়ে ব্রিফ করা হয়েছে, তবে মার্কিন বাহিনী এই ঘটনার জন্য দায়ী কি না, তা নিশ্চিত করার মতো কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না।
সামরিক অভিযানে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে উল্লেখ করে ভ্যান্স বলেন, দুর্ভাগ্যবশত কখনো কখনো এমন ঘটনা ঘটে। তিনি আরও যোগ করেন, মার্কিন বাহিনী কোনো ভুল করলে সামরিক বিভাগ তা তদন্ত করে এবং সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করে। মার্কিন সামরিক বাহিনীও আলাদাভাবে এসব প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর জানান, ৩০ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ১৪২ জন আহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে সিরিকে চারজন, খুজেস্তানে সাতজন, কেরমানশাহে আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের চারজন এবং লাভান দ্বীপে তিন বাসিনজ সদস্য রয়েছেন। এছাড়া সিরিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি। অন্যান্য ইরানি কর্মকর্তারাও বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলায় চারজন নিহত ও ডজনখানেক মানুষের আহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। এই ঘটনায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ইরানের সঙ্গে বর্তমান আলোচনার বিষয়ে ভ্যান্স বলেন, তেহরান বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত ওয়াশিংটন কোনো ধরনের আলোচনায় বসবে না। তিনি বলেন, ইরানকে দেওয়া বার্তাটি সহজ—বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো বন্ধ করতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের দাবি প্রত্যাখ্যান করে তিনি যুক্তি দেন যে, সময়সীমা দিলে ইরান আক্রমণ চালিয়ে যেতে পারে এবং মার্কিন কৌশল পূর্বাভাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।
ভ্যান্স জানান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে। সংঘাত সত্ত্বেও এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল চলাচল করেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এড়ানো।

