ইরানের সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মিসাইল হামলার ঘটনায় অন্তত চারজন নিহতের দাবির বিষয়ে তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (আইআরসিএস) জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার একটি বাড়িতে আয়োজিত বিয়ের অনুষ্ঠানে মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ আঘাত করলে চারজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে দুইজন শিশুও রয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৬৭ জন আহত হয়েছেন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ বছর বয়সী এক নারী মারা গেছেন।
নিহতদের স্থানীয়ভাবে জারখাতুন তাহেরি (৫০), কলসুম মাল্লাহি নাজদনিয়া (৪৩), মোহাম্মদ মাল্লাহি (১৬) এবং আমিরআলি কারিমি (চার) হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ইরান এই হামলাকে 'যুদ্ধাপরাধ' বলে অভিহিত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যদিও এই হামলার বিষয়ে 'অত্যন্ত সন্দিহান' বলে মন্তব্য করেছেন, তবুও তিনি তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই সংঘাতের বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য দেয়নি, তাই আমি এই অভিযোগের বিষয়ে অত্যন্ত সন্দিহান।' এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না। তিনি আরও বলেন, ইরান মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার চেষ্টা করায় একই দিন মার্কিন মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
বিবিসি ভেরিফাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, কুহেস্তাকের উপকূলে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ধ্বংস হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। টাওয়ারটি যে বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল, সেখান থেকে প্রায় ১১২ মিটার দূরে অবস্থিত। এছাড়া টাওয়ারটির ১৩০ মিটার উত্তরে বাড়িগুলোতে ভয়াবহ ক্ষতির চিহ্ন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালানোর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে গত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে সংঘাত চলছে।

