মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রগুলোতে রেকর্ড ১,০০০ ফেডারেল পর্যবেক্ষক মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে)। সোমবার ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ঘোষণা দিয়েছেন বিচার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশনের প্রধান তথা অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল হারমিত ধিলন।
ফেডারেল ভোটাধিকার আইন (ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট) যথাযথভাবে মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সিভিল রাইটস ডিভিশন দীর্ঘদিন ধরেই দেশজুড়ে ভোটকেন্দ্রগুলোতে পর্যবেক্ষক পাঠিয়ে আসছে। এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো ভোটদানে বৈষম্য প্রতিরোধ করা এবং বর্ণ, লিঙ্গ, জাতিসত্তা, ধর্ম, প্রতিবন্ধকতা বা অন্য কোনো সংরক্ষিত শ্রেণির ভিত্তিতে ভোটাররা যাতে কোনো ধরনের হুমকি বা বাধার সম্মুখীন না হন, তা নিশ্চিত করা। ঐতিহাসিকভাবে, বিচার বিভাগের নিজস্ব সিভিল রাইটস ডিভিশনের আইনজীবী ও কর্মীরাই এই পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। এ কাজে তাদের সহায়তা করে মার্কিন অ্যাটর্নি কার্যালয়গুলো।
বিগত নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার পর্যবেক্ষকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে। সাবেক কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ৩০০ জনেরও কম পর্যবেক্ষক পাঠানো হয়েছিল। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ২৭টি অঙ্গরাজ্যের ৮৬টি নির্বাচনী এলাকায় ফেডারেল ভোটাধিকার আইন তদারকির জন্য প্রায় ৭০০ জন পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়েছিল।
তবে আসন্ন নির্বাচনে কীভাবে ১,০০০ পর্যবেক্ষক পাঠানো সম্ভব হবে, তা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে। কারণ এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির প্রয়োজন। ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে সিভিল রাইটস ডিভিশনের জনবল মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। ধিলনের নেতৃত্বে বিভাগের লক্ষ্য পরিবর্তনের আশঙ্কায় প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি স্থায়ী কর্মী আগাম অবসর নেন অথবা পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে নতুন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হলেও বিভাগটিতে এখনো কর্মী সংকট রয়ে গেছে। এই ঘাটতি মেটাতে বিচার বিভাগের এক মুখপাত্র সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, তারা নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করার জন্য ফেডারেল কর্মীদের মধ্য থেকে স্বেচ্ছাসেবী খুঁজছেন। বিশেষ করে বিচার বিভাগ ও মার্কিন অ্যাটর্নি কার্যালয়ের কর্মীদের এতে যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
প্রাইমারি বা প্রাথমিক নির্বাচনগুলো শেষ হওয়ার পর পর্যবেক্ষক মোতায়েনের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ফ্লোরিডার মায়ামি-ডেড কাউন্টি এবং ওয়াইওমিংয়ের লারামি কাউন্টির প্রাথমিক নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে বিচার বিভাগ। ভোটকেন্দ্রে পর্যবেক্ষক পাঠানো বিচার বিভাগের একটি দীর্ঘস্থায়ী চর্চা হলেও, এবার বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখছে। এর কারণ হলো, ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য চেয়ে সিভিল রাইটস ডিভিশন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বিরুদ্ধে ৩১টি মামলা করেছে। সরকারের দাবি, ভোটার তালিকা পরিচ্ছন্ন রাখা এবং অ-নাগরিকদের ভোটার হওয়া ঠেকাতে এই তথ্য প্রয়োজন। তবে অঙ্গরাজ্যগুলোর যুক্তি, এই মামলাগুলোর মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সততা নিয়েই সংশয় তৈরি করা হচ্ছে। অবশ্য বিচার বিভাগ এখনো কোনো মামলায় জয়ী হতে পারেনি; ইতিমধ্যে ২৩টি মামলায় বিচারকরা তথ্য দেওয়ার অনুরোধ খারিজ করে দিয়েছেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই ভোটার তথ্য ব্যবহার করে অপরাধ দমন এবং অভিবাসন আইন প্রয়োগের কাজ করতে চাইছে। সম্প্রতি অ্যারিজোনার সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যাড্রিয়ান ফন্টেস একটি পাবলিক রেকর্ডস রিকোয়েস্ট বা সরকারি তথ্য চেয়ে আবেদন করেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, কেন বিচার বিভাগ তাদের প্রাথমিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য তিনটি কাউন্টিতে পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছিল।

