যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থা ‘ইউএস সিক্রেট সার্ভিস’-এর তিন কর্মকর্তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা ‘সম্ভাব্য অসদাচরণের’ তদন্ত চলায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে গত মঙ্গলবার রাতে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ছুটিতে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে সিক্রেট সার্ভিসের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা (চিফ অব কমিউনিকেশনস) অ্যান্থনি গুগলিয়েলমি এবং তার কার্যালয়ের আরও দুই কর্মী রয়েছেন। অভ্যন্তরীণ তদন্তের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, তদন্ত চলাকালে এই তিন কর্মকর্তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে এবং তাদের দাপ্তরিক ডিভাইস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
তবে এই কর্মকর্তাদের ঠিক কী কারণে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে বা তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগের তদন্ত চলছে, তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। সিক্রেট সার্ভিসের একজন মুখপাত্র কেবল নিশ্চিত করেছেন যে, ‘আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা নন এমন তিন কর্মীকে’ সম্ভাব্য অসদাচরণের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ছুটিতে রাখা হয়েছে। সংস্থাটির ‘অফিস অব প্রফেশনাল রেসপন্সিবিলিটি’ এই ঘটনার তদন্ত করছে।
সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রেসিডেন্ট এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সুরক্ষায় আমাদের যে সর্বোচ্চ দায়িত্ব রয়েছে, তা পালনে ইউএস সিক্রেট সার্ভিস সবসময় পেশাদারিত্ব ও সততার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের স্বার্থে কর্মীদের দায়িত্বশীলতা, সততা ও সাহসিকতার পরিচয় দেওয়া জরুরি।”
এদিকে অ্যান্থনি গুগলিয়েলমির আইনজীবী গ্রেগ বার্নস্টাইন সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, তার মক্কেল অত্যন্ত সৎ একজন পেশাদার ব্যক্তিত্ব। স্থানীয়, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থায় দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তার কাজের রেকর্ডই এর প্রমাণ দেয়। গুগলিয়েলমি সিক্রেট সার্ভিসের দায়িত্ব ও কাজের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রাখেন এবং চলমান তদন্তে তিনি পূর্ণ সহযোগিতা করছেন।
এই তদন্তের খবরটি প্রথম প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। উল্লেখ্য, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জেডি ভ্যান্সের নিরাপত্তা দলের এক সদস্যের বিরুদ্ধে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার পর সিক্রেট সার্ভিস একটি তদন্ত শুরু করে, যাকে তারা ‘প্রশাসনিক তদন্ত’ ও ‘সম্ভাব্য ফৌজদারি অনুসন্ধান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

