ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহকারী নাটালি হার্পকে নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের এক আক্রমণাত্মক মন্তব্য তাকে জাতীয় স্তরে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে এসেছে। গত ১৬ আগস্ট আটলান্টায় এক জনসভায় অসফ অভিযোগ করেন, ট্রাম্প নিজের দায়িত্ব পালনের চেয়ে ‘নাটালিকে নিয়ে ভ্রমণ’ করতেই বেশি পছন্দ করেন। এই মন্তব্যের পর ট্রাম্পের ওপর হার্পের প্রভাব এবং প্রেসিডেন্টের এত কাছাকাছি তার অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
৩৪ বছর বয়সী নাটালি হার্প বর্তমানে ট্রাম্পের নির্বাহী সহকারী এবং তার অভ্যন্তরীণ চক্রের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ। ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্কের সাবেক এই টেলিভিশন উপস্থাপক ২০১২ সালে পয়েন্ট লোমা নাজারেথ ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক এবং ২০১৫ সালে লিবার্টি ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। তিনি প্রথম জাতীয়ভাবে নজরে আসেন যখন তিনি দাবি করেন যে, ট্রাম্পের সই করা ‘রাইট টু ট্রাই’ আইনের কারণে তিনি হাড়ের ক্যান্সারের পরীক্ষামূলক চিকিৎসা নিতে পেরেছিলেন এবং সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। এরপর তিনি ২০২০ সালের রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে বক্তব্য দেন এবং ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত হন। পরবর্তীতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে তিনি হোয়াইট হাউসে নির্বাহী সহকারী হিসেবে যোগ দেন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের কাছে নাটালি ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ বা মানব প্রিন্টার নামে পরিচিত। ট্রাম্প যেখানেই যেতেন, নাটালি একটি পোর্টেবল প্রিন্টার এবং ব্যাটারি প্যাক নিয়ে সাথে ঘুরতেন যাতে প্রেসিডেন্টকে যেকোনো তথ্যের প্রিন্ট করা কপি তৎক্ষণাৎ সরবরাহ করা যায়। এছাড়া ট্রাম্পের বিতর্কিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টে নাটালির প্রবেশাধিকার রয়েছে এবং ট্রাম্পের অনেক বিতর্কিত পোস্টের পেছনে তার ভূমিকা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ট্রাম্পের সাথে নাটালির ঘনিষ্ঠতা সম্প্রতি আরেকটি ঘটনায় স্পষ্ট হয়। ইরান থেকে ট্রাম্পের প্রাণনাশের হুমকির মুখে যখন তাকে গোপনে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে ক্যাটারিং ট্রাকে করে অন্য একটি বিমানে স্থানান্তর করা হয়েছিল, তখন যে অল্প কয়েকজন সহযোগী তার সাথে ছিলেন নাটালি তাদের মধ্যে অন্যতম। অথচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারের মতো শীর্ষ কর্মকর্তারা সেই মূল বিমানেই রয়ে গিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে ‘ডিকয়’ বা বিভ্রান্তি তৈরির বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
সাংবাদিক ও লেখক মাইকেল উলফ তার ২০২৫ সালের বই ‘অল অর নাথিং: হাউ ট্রাম্প রিক্যাপচার্ড আমেরিকা’-তে দাবি করেছেন, নাটালি ট্রাম্পের জন্য প্রস্তুত করা ব্রিফিং নথিতে প্রায়ই ব্যক্তিগত প্রশংসামূলক নোট যুক্ত করতেন। ভ্যানিটি ফেয়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ধরনের বার্তা ট্রাম্পের আশেপাশের কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছিল। কিছু কর্মকর্তা নাটালিকে ট্রাম্পের থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি।
নাটালির ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ্যে না এলেও তার ভাই প্রেস্টন হার্পের কিছু মন্তব্য বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেস্টন তাদের এই সম্পর্ককে ‘অস্বাভাবিক’ ও ‘অসুস্থ’ বলে অভিহিত করেছেন। পরে দ্য ডেইলি বিস্টকে তিনি বলেন, তার বোন সম্ভবত ট্রাম্পকে একজন পিতৃসুলভ ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখেন, কারণ নিজের প্রয়াত বাবার সাথে নাটালির সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না। সিনেটর অসফের মন্তব্যের পর নাটালিকে নিয়ে কৌতূহল ও স্ক্রুটিনি এখন তুঙ্গে।

