রকেট মর্টগেজের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি চারজন মর্টগেজ গ্রহীতার মধ্যে একজন তাদের ঋণের বিপরীতে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করছেন। এই প্রবণতা অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগায় যে, ঋণের কিস্তি আগেভাগে পরিশোধ করা আসলেই একটি ভালো বুদ্ধি কি না।
তাত্ত্বিকভাবে, প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৫০ বা ১০০ ডলার পরিশোধ করলে ঋণের মেয়াদ কমে আসে এবং দীর্ঘমেয়াদে কয়েক হাজার ডলার সুদ সাশ্রয় হয়। তবে বাস্তবতা হলো, বেশিরভাগ মর্টগেজের সুদের হার ক্রেডিট কার্ড, ব্যক্তিগত ঋণ বা হোম ইক্যুইটি লোনের তুলনায় কম থাকে। নার্ডওয়ালেটের ঋণ বিশেষজ্ঞ কেট উডের মতে, অনেকের কাছে মর্টগেজ সবচেয়ে বড় ঋণের বোঝা হলেও, এটি সাধারণত সবচেয়ে কম সুদের হারের ঋণ।
রকেট মর্টগেজের উপাত্তে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে অন্তত ২৫ শতাংশ ঋণগ্রহীতা অতিরিক্ত মূলধন পরিশোধ করেছেন। ২০২১ ও ২০২২ সালের দিকে যখন সুদের হার ঐতিহাসিকভাবে কম ছিল, তখন এই হার সবচেয়ে বেশি ছিল। রকেট মর্টগেজের চিফ বিজনেস অফিসার বিল ব্যানফিল্ডের মতে, এই অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের পেছনে কেবল গাণিতিক হিসাব নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক কারণও কাজ করে। অনেক গৃহমালিকই ঋণমুক্ত বাড়ি পাওয়ার স্বপ্ন দেখেন, যা তাদের কাছে একটি দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য।
তবে আর্থিক উপদেষ্টারা সতর্ক করে বলছেন, যদি আপনার অন্য কোনো উচ্চ সুদের ঋণ থাকে, তবে কম সুদের মর্টগেজে অতিরিক্ত অর্থ খরচ না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। ব্যাংকরেটের তথ্য অনুযায়ী, এক-পঞ্চমাংশ মর্টগেজ গ্রহীতার ঋণের সুদের হার ৩ শতাংশের নিচে, যা বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির হারের চেয়েও কম। প্রজন্মের পার্থক্যের কারণেও বিনিয়োগ ও ঋণ পরিশোধের দৃষ্টিভঙ্গিতে ভিন্নতা দেখা যায়। বয়স্করা ঋণমুক্ত হওয়াকে প্রাধান্য দেন, যেখানে তরুণ গৃহমালিকরা অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগে আগ্রহী। জিলোর সিনিয়র অর্থনীতিবিদ কারা এনজি জানান, যাদের সুদের হার ৬ শতাংশের বেশি, তাদের জন্য অতিরিক্ত কিস্তি দেওয়া আর্থিক দিক থেকে বেশি যুক্তিযুক্ত।
ঋণ দ্রুত পরিশোধের তিনটি প্রধান উপায় রয়েছে। প্রথমত, নিয়মিত কিস্তির সাথে ছোট আকারে অতিরিক্ত অর্থ যোগ করা বা এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ জমা দেওয়া। নার্ডওয়ালেটের কেট উড তার পূর্বের ঋণের ক্ষেত্রে প্রতি মাসে ছোট বাড়তি কিস্তি দিয়ে দুই বছর আগেই ঋণ শোধ করেছিলেন। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ রিয়েলটরসের অর্থনীতিবিদ নাদিয়া ইভানজেলোর মতে, ৪০০,০০০ ডলারের ৩০ বছর মেয়াদী ৩.৫ শতাংশ সুদের ঋণে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৫০০ ডলার পরিশোধ করলে ১০ বছর আগেই ঋণ শোধ সম্ভব এবং এতে ৮৭,০০০ ডলার সুদ সাশ্রয় হয়।
দ্বিতীয় উপায় হলো 'মর্টগেজ রিকাস্ট', যেখানে এককালীন বড় অর্থ জমা দিয়ে ঋণের মাসিক কিস্তি কমিয়ে আনা হয়। তবে এতে ঋণের মেয়াদ সাধারণত কমে না। তৃতীয় উপায় হলো রিফাইন্যান্স করা। তবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ ৩০ বছর মেয়াদী ফিক্সড মর্টগেজের গড় হার ৬.৭৫ শতাংশ হওয়ায় রিফাইন্যান্স করা বর্তমানে কম আকর্ষণীয়। আর্থিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি সুদের হার ১ শতাংশ বা তার বেশি না কমে, তবে রিফাইন্যান্স করা লাভজনক হয় না। সবশেষে, বিল ব্যানফিল্ডের পরামর্শ অনুযায়ী, যদি লক্ষ্য হয় দ্রুত ঋণ শোধ করা, তবে রিফাইন্যান্সের ঝামেলায় না গিয়ে সরাসরি বিদ্যমান ঋণের বিপরীতেই বাড়তি কিস্তি জমা দেওয়া সবচেয়ে সহজ সমাধান।

