ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি আন্দোলন সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর হাত থেকে কৌশলগত লোহিত সাগরীয় বন্দর শহর মোখা দখল করে নিয়েছে বলে সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। মোখা বন্দরের এই নিয়ন্ত্রণ হুথিদের বাব আল-মান্দাব প্রণালীর আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। লোহিত সাগর ও গালফ অব এডেনকে সংযোগকারী এই প্রণালীটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চলাচল পথ হিসেবে পরিচিত এবং এটি মোখা থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার বা ৪৬ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত।
গত এক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে হুথিদের এই নতুন অভিযানের ফলে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই সংঘাতের পাশাপাশি প্রতিবেশী সৌদি আরবের সঙ্গে হুথিদের উত্তেজনার পারদও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার হুথিরা দক্ষিণ সৌদি আরবে কয়েক ডজন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন এবং সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি তেল স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যার ফলে সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়।
হুথিদের দাবি, উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেনে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরবের বিমান হামলার জবাবেই তারা এই পাল্টা আক্রমণ পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে জাওফ প্রদেশের হাজম শহরের একটি কারাগারে চালানো হামলায় অন্তত ২৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ইয়েমেনের এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই ধ্বংসাত্মক গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট দেশটির সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। গত জুলাই মাসে চার বছর আগের অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর থেকে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। সে সময় হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে 'সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা' ঘোষণা করে এবং সৌদি বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও লোহিত সাগরে থাকা ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে।
হুথিরা এই হামলাগুলোকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের ভূখণ্ডে বন্দর ও বিমানবন্দর অবরুদ্ধ করার এবং সানা বিমানবন্দরে বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের ফলে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে লোহিত সাগর এখন সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

