ইয়েমেনের সেনাবাহিনী শনিবার জানিয়েছে, পশ্চিম ইয়েমেনের তাইজ এবং হুদায়দা প্রদেশে হুথি গোষ্ঠীর দখলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত বেশ কিছু অবস্থান তারা পুনর্দখল করেছে। সেনাবাহিনীর সংবাদমাধ্যম 'সেপ্টেম্বর নেট' জানিয়েছে, তাইজ ও লাহিয প্রদেশের প্রশাসনিক সীমান্তের হাইফান ফ্রন্টে সরকারি বাহিনী বড় ধরনের সামরিক সাফল্য অর্জন করেছে।
সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়েবসাইটটি আরও জানায়, তাইজ এবং পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘর্ষে হুথিদের বহু সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে হুথিদের বেশ কিছু সামরিক যান ধ্বংস করা হয়েছে। তাইজ ও পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে এখনো লড়াই চলছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
এর আগে তাইজ শহরের পূর্বাঞ্চলে হুথিদের একটি অনুপ্রবেশের চেষ্টাও নস্যাৎ করে দিয়েছে সরকারি বাহিনী। সেনাবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, শহরের পূর্ব প্রবেশদ্বারের কাছে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদকের তথ্যমতে, শহরের পূর্ব দিকে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে চলমান সংঘর্ষের ইঙ্গিত দেয়।
এদিকে, হুদায়দা ও তাইজের আল-বারহ ফ্রন্টে সরকারপন্থী 'ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস' দুটি হুথি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। তাদের তথ্যমতে, ড্রোনগুলো ফাইবার-অপটিক ক্যাবল ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল। এছাড়া হুদায়দা উপকূলে হুথিদের দুটি বিস্ফোরকবাহী নৌকা ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছে তারা। এই নৌকাগুলো আল-খোকহার দক্ষিণে আল-ফাজরা এলাকা এবং মোখা বন্দরকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল।
হুদায়দার দক্ষিণাঞ্চলীয় আল-জারাহি ফ্রন্টেও হুথিদের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে সরকারি বাহিনী। শুক্রবার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধবিমান তাইজ ও হুদায়দায় হুথিদের অবস্থানে ১৫টি বিমান হামলা চালিয়েছে। ২০২২ সাল থেকে ইয়েমেনের ফ্রন্টগুলোতে যে আপেক্ষিক শান্তি বজায় ছিল, গত জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক পাল্টা আক্রমণ তাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানী সানা ও বেশ কয়েকটি শহর হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, অন্যদিকে দেশের দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের বড় এলাকা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নিয়ন্ত্রণে।

