ফিলিপাইনের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সাবেক স্পিকার ও প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা মার্টিন রোমুয়ালদেজকে সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কোটি কোটি ডলার আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের এই চাচাতো ভাই এবং সাবেক মিত্রের বিরুদ্ধে স্যান্ডিগানবায়ান নামক দুর্নীতিবিরোধী আদালতে লুটপাটের মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ওম্বুদসম্যান জেসুস ক্রিসপিন রেমুল্লা জানিয়েছেন, এই মামলায় ৭.৪ বিলিয়ন পেসো বা প্রায় ১১৮ মিলিয়ন ডলারের দুর্নীতির বিষয়টি উঠে এসেছে, যা বিভিন্ন লেনদেনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রেসিডেন্ট মার্কোস দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রায় ৫৪৫ বিলিয়ন পেসো বা ৯ বিলিয়ন ডলারের ১০ হাজার বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। এর মধ্যে অনেক প্রকল্পই নিম্নমানের, অতিরিক্ত মূল্যের অথবা আদৌ তৈরি করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফিলিপাইন প্রাকৃতিকভাবেই টাইফুনপ্রবণ দেশ, যেখানে প্রতি বছর প্রায় ২০টি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। এতে প্রতি বছরই ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। রোমুয়ালদেজ অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গ্রেপ্তারের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোনভিক রেমুল্লা জানিয়েছেন, উচ্চ রক্তচাপ ও উদ্বেগের কারণে রোমুয়ালদেজকে ম্যানিলার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা ছাড়পত্র দিলেই তাকে কারাগারে পাঠানো হবে। রেমুল্লা আরও বলেন, তার সম্পদ দিয়ে তিনি আইনের হাত থেকে বাঁচতে পারবেন না।
তদন্তাধীন এই মামলায় সাবেক আইনপ্রণেতা জালদি কো-এর নামও রয়েছে, যিনি বর্তমানে ইউরোপে পালিয়ে থাকায় তাকে পলাতক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে দায়িত্ব পালনরত একজন সিনেটর, সাবেক এক সিনেটর, সরকারি প্রকৌশলী ও নির্মাণ সংস্থার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ওম্বুদসম্যান রেমুল্লা জানান, আত্মসাৎ করা অর্থ দিয়ে বাড়ি কেনা এমনকি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এটি কেবল শুরু, রোমুয়ালদেজ ও অন্যদের বিরুদ্ধে লুটপাট ও মানি লন্ডারিংয়ের আরও মামলা করা হবে।
প্রেসিডেন্ট মার্কোস এই দুর্নীতিকে 'ভয়ঙ্কর' বলে অভিহিত করেছেন এবং এর তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করেছেন। কমিউনিকেশনস আন্ডারসেক্রেটারি ক্লেয়ার কাস্ত্রো জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট আগেই স্পষ্ট করেছেন যে, আত্মীয় হলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

