বসনিয়ার কসাই হিসেবে পরিচিত এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী রাতকো ম্লাদিচের শেষকৃত্যে অংশ নিতে সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়েছেন। ৮৪ বছর বয়সে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে জাতিসংঘের কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় তিনি মারা যান। ১৯৯৫ সালে স্রেব্রেনিৎসা হত্যাকাণ্ডে প্রায় ৮,০০০ বসনিয়াক মুসলিম পুরুষ ও শিশুকে হত্যার দায়ে জাতিসংঘ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ নৃশংসতা হিসেবে বিবেচিত।
ম্লাদিচের শেষকৃত্য নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। সোমবার ইইউ এক বিবৃতিতে ম্লাদিচের ‘মহিমান্বিতকরণ’-এর তীব্র নিন্দা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, রাতকো ম্লাদিচ একজন দোষী সাব্যস্ত যুদ্ধাপরাধী, যিনি গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিলেন। ইইউ বা এর সদস্যপদ প্রত্যাশী দেশগুলোতে যুদ্ধাপরাধীদের মহিমান্বিত করা বা গণহত্যার অস্বীকারের মতো কর্মকাণ্ডের কোনো স্থান নেই।
১৯৯০-এর দশকে বসনিয়ার যুদ্ধের সময় ম্লাদিচ বসনিয়ান সার্ব বাহিনীর নেতৃত্ব দেন। তার বাহিনী বসনিয়া-হার্জেগোভিনায় অ-সার্বীয় জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক বিতাড়িত করতে ‘জাতিগত নিধন’ চালায় এবং রাজধানী সারায়েভো অবরোধ করে রাখে, যেখানে ১০,০০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়। ২০১১ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ১৬ বছর ধরে বিচার প্রক্রিয়া চলে এবং ২০২১ সালে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এত অপরাধের পরও অনেক সার্বের কাছে তিনি জাতীয় বীর হিসেবে গণ্য হন। বিশেষ করে বসনিয়ান সার্ব অঞ্চল রিপাবলিকা শ্রপস্কায় তার মৃত্যুতে শোক পালন করা হয়। শেষকৃত্যের আগে সেন্ট লুকা চার্চে তার মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দীর্ঘ সারি দেখা যায়। সার্বিয়ার সরকার শুরুতে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করার পরিকল্পনা করলেও ইউরোপীয় নেতাদের আপত্তির মুখে তা পরিবর্তন করা হয়। তবে সার্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রাতিস্লাভ গাসিচ এবং বিচারমন্ত্রী নেনাদ ভুজিচসহ বেশ কয়েকজন সরকারি মন্ত্রী শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন।
সার্বিয়ান অর্থোডক্স চার্চের প্রধান প্যাট্রিয়ার্ক পোরফিরিয়ে শেষকৃত্য পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, ম্লাদিচের নাম সার্বিয়ান অর্থোডক্স জনগণের স্মৃতি ও প্রার্থনায় চিরকাল গেঁথে থাকবে। ভক্তদের জন্য বসনিয়া এবং সার্বিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। রেড স্টার বেলগ্রেড ফুটবল ক্লাবের সমর্থকরাও শেষকৃত্যের আগের রাতে ম্লাদিচের একটি প্রতিকৃতি প্রদর্শন করে। তবে এই ঘটনায় যুদ্ধের ভয়াবহ স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে ভুক্তভোগীদের মনে। সারায়েভোর বাসিন্দা জদ্রাভকা গভোদার, যার নয় বছর বয়সী ছেলেকে ম্লাদিচের বাহিনীর অবরোধের সময় হত্যা করা হয়েছিল, তিনি এই শেষকৃত্যকে ‘ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করেন এবং ম্লাদিচকে কেবল একজন কসাই হিসেবেই মনে রাখার আহ্বান জানান।

