রোমের বাথস অফ ট্রাজানে আবিষ্কৃত প্রাচীনতম ফ্রেসকো ও মোজাইক কমপ্লেক্সটি প্রথমবারের মতো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার রোমের মেয়র রবার্তো গুয়ালতিয়েরি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক শিল্পকর্মগুলো জনসমক্ষে উপস্থাপন করেন। এগুলো মূলত ১৯৯০-এর দশকে কলোসিয়ামের কাছে ওপিও পাহাড়ে বাথস অফ ট্রাজানে খননকাজ চালানোর সময় ভূগর্ভস্থ গ্যালারিতে পাওয়া গিয়েছিল।
উন্মোচিত শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে 'পেইন্টেড সিটি' ফ্রেসকো এবং 'গ্রেট মোজাইক'। মেয়র গুয়ালতিয়েরি জানান, দেয়ালচিত্রটি প্রাচীন রোমের এই ধরণের সবচেয়ে বড় ফ্রেসকো, যেখানে একটি প্রাচীরবেষ্টিত বন্দরনগরীকে পাখির চোখে দেখা যায়। তিনি বলেন, শৈল্পিক সৌন্দর্য এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের দিক থেকে এগুলো বিশ্বে সত্যিই অতুলনীয়।
রোমের সাংস্কৃতিক তত্ত্বাবধায়ক ক্লাউডিও পারিসি প্রেসিস জানান, ফ্রেসকোতে চিত্রিত বন্দরনগরীটি অত্যন্ত সুসংরক্ষিত। এতে বিভিন্ন ভবন, থিয়েটার, মন্দির, চত্বর এবং টাওয়ারের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, এটি কোন শহরের চিত্র তা নিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও, এটি নিশ্চিতভাবেই তৎকালীন সময়ে অত্যন্ত পরিচিত কোনো শহর ছিল।
মোজাইকটি ১৫ মিটার উঁচু এবং এতে বিভিন্ন স্তরে সূক্ষ্ম কারুকার্যমণ্ডিত কলাম, স্থাপত্যশৈলী ও নানা প্রতিকৃতি রয়েছে। এর উপরের স্তরে থিয়েটারের মতো দৃশ্যপট এবং নিচের স্তরে বন্দরনগরীর আরেকটি চিত্র দেখা যায়, যা সম্প্রতি সংস্কারের সময় আবিষ্কৃত হয়েছে।
বর্তমানে দর্শনার্থীদের জন্য এটি সীমিত পরিসরে উন্মুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রতিবার ১৫ জনের ছোট দলে এবং এই মাস থেকে শুধুমাত্র সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এটি দেখার সুযোগ থাকছে। এই ট্রায়াল পিরিয়ডের মূল উদ্দেশ্য হলো, আর্দ্রতা ও জলবায়ুর প্রভাবে শিল্পকর্মগুলো কীভাবে সাড়া দিচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করা।
উল্লেখ্য, সম্রাট ট্রাজানের শাসনামলে ১০৯ খ্রিস্টাব্দে এই বাথস অফ ট্রাজান কমপ্লেক্সটি উদ্বোধন করা হয়েছিল। ছয় হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই স্থাপনাটি তৎকালীন বিশ্বে সবচেয়ে বড় স্নানাগার ছিল। এখানে স্নানের পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুবিধাও ছিল, যার প্রমাণ পাওয়া যায় এর উপরের স্তরের বিশাল অর্ধবৃত্তাকার 'লাইব্রেরি' অংশে।

