আর্জেন্টিনা সরকার ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সমুদ্রসীমায় তেল উত্তোলনের অভিযোগে তেল আবিব স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ‘নেভিটাস পেট্রোলিয়াম’-এর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করার ঘোষণা দিয়েছে। ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি ফকল্যান্ডে তেল অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের সাম্প্রতিক হুমকির মাত্র কয়েক দিন পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
নেভিটাস পেট্রোলিয়াম ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ‘সি লায়ন’ অফশোর তেল প্রকল্পের ৬৫ শতাংশ অংশীদার। ২০২৮ সালে উত্তর ফকল্যান্ড বেসিনে এই প্রকল্প থেকে তেল উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ফকল্যান্ড থেকে প্রায় ১৩০ মাইল (২০৯ কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত এই তেলক্ষেত্রে আনুমানিক ১.৭ বিলিয়ন ব্যারেল তেল রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রকল্পে আংশিক অংশীদারিত্ব থাকা ‘রকহপার’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান এখনও আর্জেন্টিনার এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে উভয় কোম্পানিই আগে জানিয়েছিল যে, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ সরকারের কাছ থেকে তাদের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে।
হাভিয়ের মিলেইয়ের কার্যালয় থেকে সোমবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নেভিটাস পেট্রোলিয়াম, এর বেশ কয়েকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং তাদের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ দেশটির আইনের পরিপন্থী। সার্বভৌম অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা হবে বলে বিবৃতিতে জোর দেওয়া হয়েছে।
আর্জেন্টিনার এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র doptorer (দপ্তরের) মন্ত্রী কার্স্টি ম্যাকনিল মঙ্গলবার হাউস অব কমন্সে দেওয়া বক্তব্যে ফকল্যান্ডের বাসিন্দাদের প্রতি যুক্তরাজ্যের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার অধিকার কেবল সেখানকার বাসিন্দাদেরই।” তিনি আরও যোগ করেন, হাইড্রোকার্বন উৎপাদনের সিদ্ধান্তটি ফকল্যান্ড সরকার এবং সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোর নিজস্ব বিষয়।
উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড যুদ্ধ শেষ হওয়ার চার দশক পরও যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে এই দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিরোধ রয়ে গেছে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট মিলেই এক জাতীয় ভাষণে বলেন, ‘পরিবর্তনের হাওয়া’ ফকল্যান্ডের ওপর আর্জেন্টিনার দাবির পক্ষে রয়েছে এবং তেল উত্তোলনকে দেশটির সার্বভৌমত্বের জন্য এক “স্পষ্ট ও জরুরি বিপদ” হিসেবে আখ্যায়িত করেন। মিলেই এর আগে ১৯৮২ সালের যুদ্ধের প্রবীণ সৈনিকদের দ্বারা ফকল্যান্ড ইস্যুতে ‘অতিরিক্ত নরম’ অবস্থানের জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন। তবে তার সাম্প্রতিক ভাষণে তিনি আবারও দৃঢ় অবস্থান নিয়ে বলেন, “মালভিনাস (ফকল্যান্ড) ঐতিহাসিকভাবে ও আইনগতভাবে আর্জেন্টিনার… এ নিয়ে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই।”
তিনি ২০১৩ সালের এক গণভোটের ফলাফলও প্রত্যাখ্যান করেন, যেখানে ৯৯.৮ শতাংশ বাসিন্দা ব্রিটিশ টেরিটরি হিসেবে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। মিলেইয়ের দাবি, ফকল্যান্ডের বাসিন্দারা এমন এক ভূমিতে বাস করছেন যা ব্রিটিশরা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে এবং তাই তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের কোনো বৈধ অধিকার নেই। ব্রিটিশ সরকার অবশ্য মিলেইয়ের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে যে ফকল্যান্ড ইস্যুতে তাদের অবস্থান ‘অটল’।

