জাপানি শিল্পী ইয়ায়োই কুসামার মৃত্যুর মাত্র দুই সপ্তাহ পর আমস্টারডামের স্টেডেলিক মিউজিয়ামে তার কাজের এক বিশাল প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছে। ১৪ আগস্ট ৯৭ বছর বয়সে মারা যাওয়া এই বিশ্বখ্যাত শিল্পীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে একটি বিশেষ ইনস্টলেশন, যার নাম দেওয়া হয়েছে “ইনফিনিটি মিরড রুম — দ্য হোপ অফ দ্য পোলকা ডটস বারিড ইন ইনফিনিটি উইল ইটারনালি কভার দ্য ইউনিভার্স”। হলভর্তি হলুদ রঙের তাঁবু এবং গোল গোল নকশায় সজ্জিত এই কক্ষটি আয়নার প্রতিফলনে এক মায়াবী জগতের সৃষ্টি করে, যেখানে দেয়াল ও মেঝের নকশাগুলো অসীমতার আবহ তৈরি করে।
প্রদর্শনীটির কিউরেটর লিওনটাইন কোয়েলউইজ জানান, কুসামার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই তারা এটিকে তার কাজের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের একটি অনুষ্ঠানে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। মিউজিয়ামের বাইরের অংশে এবং পাশের মিউজিয়াম স্কয়ারের গাছগুলোতেও লাল কাপড়ে কুসামার সিগনেচার ডট বা বিন্দুগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
কোয়েলউইজের মতে, কুসামা তার শৈশবের হ্যালুসিনেশন বা বিভ্রমকে জয় করার উপায় হিসেবেই এই ডটগুলো আঁকতেন। প্রদর্শনীতে থাকা বিশালাকার একটি কুমড়া, যা ফাইবার-রিইনফোর্সড প্লাস্টিক ও পলিউরেথেন পেইন্ট দিয়ে তৈরি, সেটিও তার এই অনন্য শৈল্পিক দর্শনের বহিঃপ্রকাশ। তিনি তার কাজের মাধ্যমে মহাবিশ্ব এবং আমাদের চারপাশের জগতের সঙ্গে সম্পর্কের ধারণাগুলো অন্বেষণ করতেন।
নেদারল্যান্ডস এবং স্টেডেলিক মিউজিয়ামের সঙ্গে কুসামার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। ষাটের দশকের মুক্তচিন্তার সময়ে তিনি আমস্টারডামে সক্রিয় ছিলেন এবং জার্মানির ‘জিরো’ মুভমেন্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৬৫ সালে এই মিউজিয়ামেই তার কাজের একটি মাইলফলক প্রদর্শনী হয়েছিল। এছাড়া ১৯৬৭ সালে মিউজিয়ামের চ্যাপেলে ডাচ শিল্পী জ্যান শোনহোভেনের শরীরে বিন্দু এঁকে তিনি এক বিখ্যাত ‘হ্যাপেনিং’ বা পারফরম্যান্স করেছিলেন।
কোয়েলউইজ বলেন, কুসামা নেদারল্যান্ডসের উদার ও মুক্ত পরিবেশ খুব পছন্দ করতেন এবং এখানকার কাউন্টারকালচার বা হিপ্পি সংস্কৃতির অংশ হতে পেরে তিনি নিজেকে আপন মনে করতেন। প্রদর্শনীটি শুক্রবার শুরু হয়েছে এবং আগামী ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। কুসামা ১০ বছর আগেই বলেছিলেন, তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শিল্পের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন যাতে মানুষ তার মৃত্যুর পরেও তার কাজের প্রতি আগ্রহী থাকে।

