সপ্তম থেকে দশম শতাব্দীর শুরুর দিকের ট্যাং রাজবংশ ছিল চীনের ইতিহাসের এক অনন্য স্বর্ণযুগ। যখন ইউরোপে ভাইকিংদের আক্রমণ এবং মায়ান সভ্যতার পতন ঘটছে, তখন চীনে ট্যাং রাজবংশ বিজ্ঞান, চিকিৎসা, শিল্পকলা, মুদ্রণ প্রযুক্তি এবং বাণিজ্যে এক অভাবনীয় উচ্চতায় পৌঁছেছিল। এই বিশ্বজনীন সাম্রাজ্য সিল্ক রোডের মাধ্যমে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সাথেও যুক্ত ছিল। এই ঐতিহাসিক সমৃদ্ধি এবং চীনের সাথে নিজের সংযোগ স্থাপনের তাগিদ থেকেই লেখক তার ১১ বছর বয়সী মেয়ে মুনকে নিয়ে চীনে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তাদের যাত্রা শুরু হয় বর্তমানের সিআন বা প্রাচীন চ্যাংআন শহর থেকে। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে লেখক ও তার মেয়ে যখন সিআনে পৌঁছান, তখন শহরটি আধুনিক উন্নয়নের কোলাহলে ব্যস্ত ছিল। প্রাচীন স্থাপত্য এবং আধুনিক চীনের বাস্তবতার মধ্যে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য লক্ষ্য করেন তারা। বিশাল ওয়াইল্ড গুজ প্যাগোডা এবং মিং রাজবংশের দেয়াল ভ্রমণের সময় লেখক তার মেয়েকে চীনের দীর্ঘ ইতিহাসের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। যদিও মুন ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠায় তার কাছে এই ইতিহাস কিছুটা দুর্বোধ্য ছিল, তবুও লেখক তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন কেন এই অতীত জানা জরুরি।
ভ্রমণের এক পর্যায়ে তারা টেরাকোটা ওয়ারিয়র্স এবং লুয়াংয়ের লংমেন গ্রোটোসের মতো ঐতিহাসিক স্থানগুলো পরিদর্শন করেন। এই স্থানগুলোতে হাজার হাজার বুদ্ধ মূর্তি এবং প্রাচীন ভাস্কর্য দেখে লেখক অভিভূত হন, যদিও অনেক ক্ষেত্রেই আধুনিক পর্যটন শিল্পের বাণিজ্যিক রূপটি ফুটে ওঠে। লেখক এবং মুন যখন রাজকুমারী ইয়ংতাইয়ের সমাধি পরিদর্শন করেন, তখন তারা ট্যাং রাজবংশের নারীদের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেন। ট্যাং যুগে নারীরা কেবল সৌন্দর্য নয়, বরং সাহিত্য ও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন, যা লেখককে মুগ্ধ করে।
বেইজিংয়ে থাকাকালীন লেখক গ্র্যান্ড ক্যানালের কথা স্মরণ করেন, যা তার নিজের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সহায়তা করেছিল। যদিও আধুনিক চীনের অবকাঠামো এবং দ্রুতগতির ট্রেন ভ্রমণকে সহজ করেছে, তবুও লেখক তার শৈশবের সেই শান্ত পরিবেশের অভাব অনুভব করেন। ভ্রমণের শেষ পর্যায়ে শানসি প্রদেশের কিয়ানলিং সমাধিস্থল পরিদর্শন করে তারা ট্যাং রাজবংশের প্রাচীন রহস্যের মুখোমুখি হন। লেখক অনুভব করেন যে, এই অতীত কেবল ইতিহাস নয়, বরং তা আমাদের বর্তমানের সাথে এক অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা।

