পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশনায় স্বাক্ষর করেছেন। রবিবার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। পাকিস্তানের সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের পাঠানো প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট এই সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে পাওয়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিবেদন, ফেডারেল মন্ত্রিসভা ও প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ এবং সরকারি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনার ব্যর্থতার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেডিও পাকিস্তানের তথ্য অনুযায়ী, আইন ও বিচারমন্ত্রী আজম নাজির তারার জানিয়েছেন যে, প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর হাতে থাকা ক্ষমতা এখন গভর্নরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গভর্নরের অধীনে সরকারি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১১ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। এছাড়া, খাইবার পাখতুনখোয়ার ১২টি জেলার প্রশাসনিক দায়িত্ব সরাসরি ফেডারেল সরকারের অধীনে আনার জন্য গভর্নর ও প্রধান সচিবের নেতৃত্বে একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ডন পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেডারেল সরকার মুহাম্মদ ফখর আলম ইরফানকে প্রদেশের নতুন প্রধান সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে এবং এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার আরও জানান, সংবিধানের ২৪৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে খাইবার পাখতুনখোয়া গভর্নরের সহায়তায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, আফগানিস্তান সীমান্তঘেঁষা এই প্রদেশটি আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর শাসনাধীন ছিল।

