বিংশ শতাব্দীর অন্যতম মার্কিন বীর আমেলিয়া ইয়ারহার্টের রহস্যময় অন্তর্ধানের ঘটনা আজও অমীমাংসিত। এবার তার নিখোঁজ বিমানের সন্ধানে প্রশান্ত মহাসাগরের প্রত্যন্ত দ্বীপ নিকুমারোরোতে পৌঁছেছে গবেষক দল। তবে দ্বীপের ঘন জঙ্গল এবং ইঁদুরের পাশাপাশি এই অভিযানের গবেষকদের লড়তে হচ্ছে এক অদ্ভুত ও ভীতিকর প্রাণীর সাথে, আর তা হলো বিশাল মাংসাশী নারিকেল কাঁকড়া।
কিরিবাতি নিয়ন্ত্রিত এই দ্বীপে বাস করা এই কাঁকড়াগুলোকে লন্ডন মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রি 'পাখি শিকারী দানব' হিসেবে অভিহিত করেছে। এই অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের পায়ের বিস্তার এক মিটার বা তিন ফুটেরও বেশি হতে পারে এবং এদের আয়ু ৬০ বছর পর্যন্ত হয়। জাদুঘরটির তথ্যমতে, পূর্ণবয়স্ক কাঁকড়াগুলো স্থলভাগে বাস করে এবং এদের শক্তিশালী থাবা দিয়ে এরা নারিকেল ভাঙার পাশাপাশি ইঁদুর ও বড় পরিযায়ী পাখি শিকার করতে সক্ষম। এদের গ্রিপ এতটাই শক্তিশালী যে ১০ বছর বয়সী শিশুর ওজনের সমান বস্তু এরা অনায়াসেই তুলতে পারে।
পারাডু ইউনিভার্সিটি, পারডু’স আর্কিওলজিক্যাল লিগ্যাসি ইনস্টিটিউট এবং পারডু রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ে গঠিত 'তারাইয়া অবজেক্ট' নামক এই গবেষণা দলটি ২ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে এবং ১২ অক্টোবরের মধ্যে দ্বীপে পৌঁছানোর কথা ছিল। ১৯৩৭ সালে ইয়ারহার্ট এবং তার নেভিগেটর ফ্রেড নুনান নিরক্ষরেখা বরাবর বিশ্বভ্রমণের চেষ্টাকালে নিখোঁজ হন। পারডু ইউনিভার্সিটি এই অনুসন্ধান নিয়ে একটি পডকাস্ট সিরিজও তৈরি করেছে।
গবেষণা দলের সদস্য এবং পারডু ইউনিভার্সিটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট স্টিভ শুলজ জানিয়েছেন, কাঁকড়াগুলোর বিপদ সম্পর্কে তারা সচেতন। তিনি জানান, কাঁকড়াদের আক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে তারা প্রতিদিন সূর্যাস্তের আগেই দ্বীপ ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান।
এদিকে, আমেলিয়া ইয়ারহার্টের মৃত্যুর কারণ হিসেবে একটি দীর্ঘস্থায়ী তত্ত্ব রয়েছে, যেখানে বলা হয় বিমান দুর্ঘটনার পর তিনি নিকুমারোরোর সমুদ্র সৈকতে আহত অবস্থায় বেঁচে ছিলেন। এরপর তীব্র ঘ্রাণশক্তি সম্পন্ন বিশাল নারিকেল কাঁকড়াগুলো রক্তের গন্ধে তার ওপর চড়াও হয়। ২০১৩ সালে স্মিথসনিয়ান ম্যাগাজিনের একটি নিবন্ধে এই তত্ত্বটি তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, ১৯৪০ সালে গবেষকরা দ্বীপে আমেলিয়ার বিবরণী অনুযায়ী কঙ্কালের কিছু অংশ পেয়েছিলেন। ২০০৭ সালে গবেষকরা একটি মৃত শূকর ব্যবহার করে কাঁকড়াদের প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করেছিলেন, যেখানে দেখা যায় কাঁকড়াগুলো দ্রুত হাড়গুলো সরিয়ে ফেলেছিল।
লন্ডন মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রি জানিয়েছে, এই নারিকেল কাঁকড়াগুলো বিশ্বের বৃহত্তম কাঁকড়া নয়; বরং জাপানি স্পাইডার কাঁকড়াগুলো ১২ ফুট পর্যন্ত বড় হতে পারে।
