প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে প্রেস করপস বা সাংবাদিকদের অন্য কোনো ভবনে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তি এ তথ্য জানিয়েছেন। এই পদক্ষেপটি সংবাদমাধ্যমের সাথে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বর্তমান বিরোধ এবং সংবাদ সংগ্রহের অধিকার নিয়ে চলমান দ্বন্দ্বকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্রমতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্পের বাইরের মিত্ররা এই আইডিয়াটি সামনে নিয়ে এসেছেন, যার মধ্যে সাবেক ট্রাম্প স্ট্র্যাটেজিস্ট স্টিভ ব্যাননের নামও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর স্টিভেন চেউং এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আমেরিকানরা ভুয়া সংবাদমাধ্যমের ওপর বিরক্ত কারণ তারা মিথ্যা এবং তথ্যের উৎসবিহীন প্রতিবেদন তৈরি করে। তিনি আরও বলেন, সব বিকল্পই খোলা রয়েছে এবং সময়মতো এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হবে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত কাজের জায়গা এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে রয়েছে। বর্তমান প্রেস ব্রিফিং রুমটি নিক্সন প্রশাসনের সময় নির্মাণ করা হয়েছিল, যা ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের সময় থেকে ব্যবহৃত একটি সুইমিং পুলের জায়গায় তৈরি হয়। গত মাসের শেষের দিকে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে একটি ছবি পোস্ট করে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ব্রিফিং রুমটিকে পুনরায় সুইমিং পুলে রূপান্তর করা যেতে পারে।
২০১৭ সালে দায়িত্ব নেওয়ার আগেও ট্রাম্প প্রশাসন প্রেস করপসকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। সে সময় তৎকালীন চিফ অব স্টাফ রেইনস প্রিবাস জানিয়েছিলেন, আইজেনহাওয়ার এক্সিকিউটিভ অফিস বিল্ডিংয়ে সংবাদ সম্মেলন করার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে সাংবাদিকদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে ট্রাম্প তখন সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছিলেন।
গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও সাংবাদিকদের মধ্যে বেশ কিছু বিরোধ তৈরি হয়েছে। গত মাসে ট্রাম্প সিএনএন, এমএস এনওডব্লিউ এবং পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস কমপ্লেক্স থেকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন। যদিও ফেডারেল বিচারক এই নিষেধাজ্ঞা ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট বা বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী উল্লেখ করে তাদের প্রেস ক্রেডেনশিয়াল ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেন। তবুও, প্রশাসন এখনো নিয়মিতভাবে সিএনএনকে টেলিভিশন প্রেস পুলের কার্যক্রম থেকে বিরত রাখছে।
এছাড়া, গত এক বছরেরও বেশি সময় আগে ট্রাম্পের পছন্দ অনুযায়ী মেক্সিকো উপসাগরকে 'গালফ অব আমেরিকা' হিসেবে অভিহিত করতে অস্বীকৃতি জানানোয় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে ওভাল অফিসসহ কিছু জায়গায় প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি। পেন্টাগনও সাংবাদিকদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যার ফলে অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম সেখান থেকে সরে এসেছিল। সম্প্রতি পেন্টাগন জানিয়েছে, তারা সাংবাদিকদের জন্য পেন্টাগনের বাইরের সীমানায় নতুন একটি প্রেস ওয়ার্কস্পেস তৈরি করবে।

