যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী হেইলি স্টিভেন্সের সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক হারে ভুয়া ভিডিও প্রচারের ঘটনা ঘটেছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতভিত্তিক একটি নেটওয়ার্ককে অর্থ প্রদানের মাধ্যমে এই ভিডিওগুলো তৈরি ও প্রচার করা হয়েছে। আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত প্রাইমারি নির্বাচনের সময় এই কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তত তিন ডজন ভিডিও ক্লিপ এক্স (সাবেক টুইটার), ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যেখানে কিছু মানুষকে ব্যয় ও জীবনযাত্রার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়। ভিডিওগুলো এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল যেন সেগুলো সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত মতামত। এই ভিডিওগুলো লাখ লাখ বার দেখা হয়েছে এবং পোস্টারদের প্রতি হাজার ভিউয়ের জন্য ১ থেকে ৫ ডলার পর্যন্ত প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অ্যান্টিবট৪নাভালনি (Antibot4navalny) এবং ক্লেমসন ইউনিভার্সিটির মিডিয়া ফরেনসিক হাব নামক দুটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এই কর্মকাণ্ড শনাক্ত করেছে। অ্যান্টিবট৪নাভালনি জানিয়েছে, তারা ২৮টি এক্স অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করেছে যেগুলো থেকে ৭ মিলিয়নেরও বেশি ভিউ তৈরি করা হয়েছে। ক্লেমসন ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, এর মধ্যে কিছু অ্যাকাউন্ট অতীতে চীনভিত্তিক বট নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত ছিল।
মুম্বাইভিত্তিক একজন অপারেটর আয়ুশ জৈন জানিয়েছেন, তিনি প্রায় ৪০টি পোস্টের জন্য প্রতিটি পোস্ট পিছু ১৫ ডলার করে আয় করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কাজের অর্ডার এসেছিল লুমিনা ক্লিপার্স (Lumina Clippers) নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে, যা যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে নিবন্ধিত। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আইরিশ নাগরিক রাইস ম্যাকে এই কাজের বিষয়টি স্বীকার করলেও গোপনীয়তার কারণ দেখিয়ে তার মক্কেলের নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
এই পুরো অপারেশনটি কে অর্থায়ন করেছে তা এখনো অস্পষ্ট। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি এমন কোনো গোষ্ঠীর কাজ যারা হেইলি স্টিভেন্সকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল আল-সায়েদের বিরুদ্ধে জয়ী করতে চেয়েছিল। আল-সায়েদকে পরাজিত করে স্টিভেন্স ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি জিতে নেন এবং নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন। হেইলি স্টিভেন্সের প্রচারণার একজন সাবেক পরামর্শদাতা কেইটলিন লেগাক্কি জানিয়েছেন, স্টিভেন্স নিশ্চিত করেছেন যে তার প্রচারণা এই কর্মকাণ্ডের সাথে কোনোভাবেই জড়িত ছিল না। মিডিয়া ট্র্যাকিং ফার্ম অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, স্টিভেন্সের জন্য বিভিন্ন বাইরের গোষ্ঠী প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রদান করেছে। এই ধরনের কৌশল লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ওহাইও অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনেও লক্ষ্য করা গেছে, যা রাজনৈতিক প্রচারণায় নতুন ধরনের কৌশলের দিকে ইঙ্গিত করে।

