গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় আটজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, গত বছরের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের চিকিৎসকরা আনাদোলুকে জানিয়েছেন, দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরে নিশ্চিত করেছে যে নিহতরা পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, হামলার স্থানটি শিশুদের কয়েকটি স্কুলের কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মতে, গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের শুরু থেকেই পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হামলা চালানো হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো জনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করা এবং বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা। অক্টোবর ২০২৫-এর যুদ্ধবিরতির পরবর্তী মাসগুলোতেও পুলিশ যানবাহন, চেকপয়েন্ট এবং টহল ইউনিটের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় প্রায় তিন হাজার পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। হামাস অভিযোগ করেছে যে, গাজায় জননিরাপত্তা বজায় রাখতে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করছে ইসরায়েল, যা তাদের নৃশংস অপরাধের ধারাবাহিকতা এবং ফিলিস্তিনি অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা।
আরেকটি পৃথক হামলায় গাজা সিটির আল-থাওরা স্ট্রিটে ইসরায়েলি বিমান হামলায় শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আল-শিফা হাসপাতালের মেডিকেল সূত্র জানিয়েছে, এই হামলায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন, যাদের আঘাতের তীব্রতা বিভিন্ন রকমের। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, আল-থাওরা স্ট্রিটে বেসামরিক নাগরিকদের একটি জমায়েত লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালানো হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর ২০২৫ থেকে চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় ১,৫৮০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫,৭১১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৪,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭৫,০০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এই দীর্ঘস্থায়ী হামলায় গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।

