মধ্যপ্রাচ্যে তেলবাহী জাহাজগুলোর ওপর হামলার হুমকি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বর্তমানে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের পথ অবরুদ্ধ হওয়ার পর লোহিত সাগরকে বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার করছিলেন জাহাজ মালিকরা, কিন্তু সেখানেও নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
শিপ-ট্র্যাকিং ফার্ম কেপলারের বিশ্লেষক ম্যাথিউ রাইট জানিয়েছেন, অপরিশোধিত তেলের বাণিজ্যের ওপর হুমকির দিক থেকে বর্তমানে আমরা এই সংকটের সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছি। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক জাহাজ চলাচল করলেও গত শনি ও রবিবার এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১১ ও ৮টি। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো। শনাক্ত এড়াতে অনেক জাহাজ এখন তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে চলাচল করছে।
সৌদি আরবের লোহিত সাগরমুখী ট্যাংকারগুলোতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত ২০ জুলাই হুতি মিলিশিয়ারা সৌদি আরবের লোহিত সাগরের বন্দরগুলোতে অবরোধের ঘোষণা দেয় এবং গত সপ্তাহে ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সংস্থা বেশ কয়েকটি হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। ম্যাথিউ রাইট বলেন, হরমুজ প্রণালীতে বাধা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি বাজার ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম প্রধান পথটিও এখন হুমকির মুখে, যা সমস্যার ওপর নতুন সমস্যার জন্ম দিয়েছে।
ইন্টারট্যাঙ্কোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিম উইলকিন্স জানিয়েছেন, জাহাজ শিল্প বর্তমানে একটি ক্রমবর্ধমান এবং জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতির সম্মুখীন। তিনি বলেন, উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এখন সৌদি আরবের জলসীমা ছাড়িয়ে লোহিত সাগরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নেভিগেশনের স্বাধীনতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
কেপলারের তথ্যমতে, গত শনিবার বাব আল-মানদাব প্রণালী দিয়ে ২৮টি পণ্যবাহী জাহাজ পার হয়েছে, যার মধ্যে ছয়টি ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখেছিল। হুতিদের হুমকি মূলত সৌদি জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হওয়ায় সব জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়নি, তবে তা প্রাক-আক্রমণ পর্যায়ের প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। এশিয়ায় রপ্তানির উদ্দেশ্যে অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজের সংখ্যা প্রতিদিন চারটিতে নেমে এসেছে, যা যুদ্ধের পর থেকে সর্বনিম্ন।
হ্যাপাগ-লয়েড শিপিং কোম্পানির মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের কিছু জাহাজ লোহিত সাগর ব্যবহার করলেও তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রুট পরিবর্তনের প্রস্তুতি রাখছে। ইরান জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নয়, বরং ওমানের সাথে আলোচনা করছে। এছাড়া মার্কিন আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে কোনো চুক্তিই বর্তমান বিধিনিষেধ তুলে নেবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার পর তেলের দাম কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেল প্রতি ৪.৪ শতাংশ কমে ৮৪.০৫ দলারের কাছাকাছি লেনদেন হয়েছে, যদিও দিনের শুরুতে তা ৭.৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে ৮১.৫৫ ডলারে নেমেছিল। জেনোটা কোম্পানির প্রধান বিশ্লেষক পিটার স্যান্ডের মতে, এই সংঘাত শিপিং শিল্পকে শূন্য অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে গেছে এবং কোনো সমাধান না দেখায় পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক।

