ইয়েনের রেকর্ড পতন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের বিরল যৌথ পদক্ষেপ

জাপানি মুদ্রা ইয়েনের রেকর্ড দরপতন ঠেকাতে এক ঐতিহাসিক ও বিরল যৌথ পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান। গত সপ্তাহে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের মান ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে যাওয়ার পর মুদ্রাটির পতন রোধ করতে উভয় দেশ যৌথভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করার কথা নিশ্চিত করেছে।

২০১১ সালের পর দুই দেশের মধ্যে এটিই প্রথম সমন্বিত পদক্ষেপ। এর আগে ২০১১ সালে পূর্ব জাপানে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির পর ইয়েনের মান কমাতে উভয় দেশ যৌথভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করেছিল। উল্লেখ্য, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি গত মার্চ মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠক করেছিলেন।

জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় এবং মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে তারা আবারও এ ধরনের যৌথ হস্তক্ষেপ করতে দ্বিধা করবেন না। ইয়েন এবং জাপানি সরকারি বন্ডের ব্যাপক বিক্রয় বা ধস যাতে বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটনের ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্যাংক অব জাপানের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ওয়াশিংটনের সাথে যৌথ হস্তক্ষেপের আগে, গত বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের বাজারে জাপানি মুদ্রা কিনতে টোকিও প্রায় ৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিক্রি করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের হস্তক্ষেপের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। তবে গত শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সামনে থাকা একটি নোটে লেখা ছিল, "করণীয়: ৫ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের জাপানি ইয়েন কেনা।"

অক্সফোর্ড ইকোনমিক্সের জাপান অর্থনীতি বিভাগের প্রধান শিগেতো নাগাই বিবিসিকে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র এই সমন্বিত হস্তক্ষেপে অংশ নিতে সম্মত হয়েছে কারণ এটি কম খরচে বড় ধরনের সুফল পাওয়ার মাধ্যমে তাদের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে।" তিনি আরও যোগ করেন, দুই দেশ আগামী কিছুদিন "সমন্বিতভাবে এবং মাঝেমধ্যে" এই হস্তক্ষেপ চালিয়ে যেতে পারে। নাগাই বলেন, "হস্তক্ষেপের প্রকৃত পরিমাণ খুব বেশি না হলেও, এই দীর্ঘমেয়াদী সতর্কবার্তা বাজারে ফাটকাবাজদের দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।"

মূলত অন্যান্য প্রধান অর্থনীতির তুলনায় জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার অনেক কম থাকায় ইয়েনের মান ঐতিহাসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে জাপানের সুদের হার অনেক কম হওয়ায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে জাপানি মুদ্রা কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। গত জুনে ব্যাংক অব জাপান তাদের মূল সুদের হার বাড়িয়ে ১% করেছিল, যা ১৯৯৫ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ। এর বিপরীতে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের বেঞ্চমার্ক সুদের হার ৩.৫০% থেকে ৩.৭৫% সীমার মধ্যে রয়েছে। এছাড়া কর্মক্ষম জনসংখ্যা হ্রাস, কম উৎপাদনশীলতা এবং ডলারে পরিশোধ করতে হয় এমন জ্বালানি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার মতো দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে জাপান।

সোমবার জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের সাথে শুক্রবারের এই যৌথ পদক্ষেপ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জাপানি ইয়েনের অতিরিক্ত অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে স্কট বেসেন্ট বলেন, "সমন্বিত বৈদেশিক মুদ্রার পদক্ষেপ ইয়েনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। ইয়েনের অতিরিক্ত অবমূল্যায়ন সংশোধনে জাপানের নেওয়া সিদ্ধান্তমূলক বাজার ও মুদ্রানীতি সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলোকে আমরা জোরালোভাবে সমর্থন করি।"

রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, "তাদের ইয়েন দুর্বল হয়ে পড়ছিল এবং তারা কিছুটা সাহায্য চেয়েছিল। আমরা জাপানের পাশে সবসময় আছি।" ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মান ০.২% বেড়ে ১৫৭.০৭ ইয়েনে দাঁড়ায়, যা গত মাসের ৪০ বছরের সর্বনিম্ন ১৬৪ ইয়েনের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে জাপানি অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির পর তা আবার ১৫৭.৭০ ইয়েনে ফিরে আসে।

শিরোনাম :
জাপানে ভূমিকম্পের পর শপিং মলে বিস্ফোরণ, মালিকের নির্দেশে প্রাণ হারালেন দুই কর্মী ভোর ৪টায় একা মাঠে সাই কিশোর: চোট কাটিয়ে ফেরার নতুন লড়াই রিফ্লেক্টিং পুল ভাঙচুরের মামলা প্রত্যাহার, জেনিন পিরোর ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন ঠেকাতে নেতানিয়াহুর ওপর চাপ ইথিওপিয়ায় মঠের অনুষ্ঠানে ভূমিধসে ১৪ জনের মৃত্যু, নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি বেরোবিতে আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে হামলার ঘটনায় শিবিরের তীব্র নিন্দা অফসিজনে প্লাস্টিক সার্জারি করিয়েছেন এনএফএল তারকা টুয়ার স্ত্রী অ্যানা দুলীপ ট্রফি: উত্তর অঞ্চলের নেতৃত্বে কানহাইয়া ওয়াধাওয়ান, দলে জম্মু-কাশ্মীরের দাপট ফেইনুর্দের কাছে রোমার ২৮ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ওয়াশিংটন ও ওরেগনে ভয়াবহ দাবানল, ঘরছাড়া ৬৫ হাজার মানুষ জাপানে ভূমিকম্পের পর শপিং মলে বিস্ফোরণ, মালিকের নির্দেশে প্রাণ হারালেন দুই কর্মী ভোর ৪টায় একা মাঠে সাই কিশোর: চোট কাটিয়ে ফেরার নতুন লড়াই রিফ্লেক্টিং পুল ভাঙচুরের মামলা প্রত্যাহার, জেনিন পিরোর ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন ঠেকাতে নেতানিয়াহুর ওপর চাপ ইথিওপিয়ায় মঠের অনুষ্ঠানে ভূমিধসে ১৪ জনের মৃত্যু, নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি বেরোবিতে আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে হামলার ঘটনায় শিবিরের তীব্র নিন্দা অফসিজনে প্লাস্টিক সার্জারি করিয়েছেন এনএফএল তারকা টুয়ার স্ত্রী অ্যানা দুলীপ ট্রফি: উত্তর অঞ্চলের নেতৃত্বে কানহাইয়া ওয়াধাওয়ান, দলে জম্মু-কাশ্মীরের দাপট ফেইনুর্দের কাছে রোমার ২৮ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ওয়াশিংটন ও ওরেগনে ভয়াবহ দাবানল, ঘরছাড়া ৬৫ হাজার মানুষ