চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ফেলে দেওয়া কচুরিপানা এখন স্থানীয় কৃষকদের আয়ের বড় উৎস হয়ে উঠেছে। উপজেলার ডাকাতিয়া নদীর তীরঘেঁষে চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক সড়কের শোভান এলাকার কৃষকরা কচুরিপানা ব্যবহার করে ভাসমান বেড তৈরি করছেন এবং তাতে বিষমুক্ত সবজি চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। এই পদ্ধতি অনুসরণ করে শোভান গ্রামের শতাধিক কৃষক এখন নিয়মিত সবজি আবাদ করছেন, যা চাঁদপুর জেলাকে কৃষিতে একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এই কৃষি বিপ্লবের অগ্রপথিক কৃষক সহিদ তালুকদার। তিন দশক আগে বরিশাল থেকে আসা এক চারা বিক্রেতার কাছে ভাসমান বেড পদ্ধতির ধারণা পাওয়ার পর তিনি নিজ এলাকায় এটি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ৬০টি ভাসমান বেড তৈরি করেছেন, যার পেছনে খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা এবং আয়ের প্রত্যাশা প্রায় ১০ লাখ টাকা। এই আয় দিয়ে তিনি তার তিন সন্তানকে উচ্চশিক্ষিত করেছেন।
কৃষক বাবুল হোসেন জানান, গত ২০ বছর ধরে তিনি এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন। অপর কৃষক আবু তাহেরের মতে, এক শতক বেড তৈরিতে প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ হয় এবং সেখান থেকে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব, যা খরচের দ্বিগুণেরও বেশি লাভ। এছাড়া বেড ভেঙে জমিতে জৈবসার হিসেবে ব্যবহার করায় রাসায়নিক সারের ব্যবহারও কমেছে। আবু জাফর নামের আরেক কৃষক জানান, এই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে তিনি পরিবারের ভরণপোষণ করছেন এবং নিজেরা বিষমুক্ত খাবার পাচ্ছেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু জাফর এই উদ্যোগকে কৃষিতে একটি নতুন দিগন্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। ফরিদগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার জানান, কচুরিপানার বেডে সবজি ও মসলা চাষের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। কৃষি বিভাগ থেকে এ পর্যন্ত ২৮টি প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়ানো গেলে উৎপাদন আরো কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। স্থানীয়রা মনে করছেন, নদীর কচুরিপানা ব্যবহার করে এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশও ফিরে আসবে।
সহিদ তালুকদার জানান, এ বছর তিনি ৬০টি ভাসমান বেড তৈরি করেছেন। খরচ পড়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা, আর আয়ের আশা করছেন প্রায় ১০ লাখ টাকা। এই কচুরিপানার বেডে চাষ করা সবজির আয়ের অর্থ দিয়ে তিনি তিন সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। শোভান গ্রামে বর্তমানে প্রায় ১০০ থেকে ১১০ জন কৃষক নিয়মিত ভাসমান বেডে সবজি আবাদ করছে

