যোগদানের একদিন পরই বাহুবল থানার ওসি এম. আলী আশরাফ প্রত্যাহার

হবিগঞ্জের বাহুবল মডেল থানায় যোগদানের মাত্র একদিনের মাথায় ওসি এম. আলী আশরাফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার রাতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদের স্বাক্ষরিত এক আদেশের মাধ্যমে তাকে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। তার পরিবর্তে মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদারকে বাহুবল মডেল থানার নতুন ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এম. আলী আশরাফ গত ২১ জুলাই রাত ১০টার দিকে বাহুবল থানায় তার নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছিলেন। তবে তার যোগদানের খবর প্রকাশ হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট, ছবি ও ভিডিওতে চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মারুফ মিয়াসহ বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার চিত্র উঠে আসে। এসব পোস্টে ২০২২ সালের ২৯ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দের দেওয়া নিন্দা ও প্রতিবাদ লিপির কপিও প্রকাশ করা হয়। ওই বিবৃতিতে মারুফ মিয়ার পাশাপাশি মাহমুদুর রহমান বাপ্পি, রতন মাহফুজ ফয়সল, আব্দুস সালাম ও রিপনসহ আহত নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ করে পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছিল।

এ বিষয়ে আহত ছাত্রদল নেতা মারুফ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে কর্মকর্তা অতীতে স্বৈরাচারের বিশ্বস্ত বাহিনী হিসেবে কাজ করে একটি অঞ্চলের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও শত শত পরিবারের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন, তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া ভুক্তভোগীদের সঙ্গে অবিচার। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যাদের হাত তৃণমূল নেতাকর্মীদের রক্তে রঞ্জিত এবং যারা বছরের পর বছর তাদের ঘরছাড়া ও ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে, তারা কীভাবে আজও গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকেন।

উল্লেখ্য, এম. আলী আশরাফ ২০২০ সালের ৯ অক্টোবর চুনারুঘাট থানায় যোগদানের পর বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের দমন-পীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তিনি সেখান থেকে বদলি হন। পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, হাসিনা সরকারের আমলে সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে যোগ দেওয়া এম. আলী আশরাফ পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে নবীগঞ্জের গোপলার বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এবং ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে চুনারুঘাট থানায় ওসি (তদন্ত) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।