ঘানার দীর্ঘতম ব্যক্তি সুলেমান আব্দুল সামেদ মারা গেছেন। ৩৩ বছর বয়সী এই ব্যক্তি দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর তামালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার নিজ গ্রাম গামবাগা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার (১০০ মাইল) দূরে অবস্থিত এই হাসপাতালে তিনি পায়ের ক্ষতের সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য ভর্তি ছিলেন। যদিও চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন যে তিনি চিকিৎসায় ভালো সাড়া দিচ্ছেন, তবুও শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়ভাবে 'আউচে' নামে পরিচিত সুলেমানকে গামবাগাবাসী তাদের গ্রামের গর্ব হিসেবে দেখতেন। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্য সুলেমান আব্দুল কুদুস বিবিসিকে বলেন, "সবাই জানত তিনি কতটা উদার ও দয়ালু ছিলেন। মৃত্যুর পর থেকে এখনো অনেক মানুষ তার বাড়িতে এসে জানতে চাইছেন ঠিক কী ঘটেছিল।" শোকের তীব্রতার কথা বিবেচনা করে পরিবার তাকে গামবাগাতে না দাফন করে তামালিতেই দাফনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কারণ গ্রামে দাফন করলে শোকাতুর মানুষের ভিড় সামলানো কঠিন হতো।
সুলেমান ২০ বছর বয়সের দিকে 'গিগান্টিজম' বা অতি-দৈর্ঘ্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর আলোচনায় আসেন। ২০২৩ সালে বিবিসি কর্তৃক পরিমাপ অনুযায়ী তার উচ্চতা ছিল ৭ ফুট ৪ ইঞ্চি (২২৩ সেন্টিমিটার)। ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার উচ্চতা আরও বেড়েছিল। তার এই দীর্ঘকায় শরীরের পেছনে ছিল 'মারফান সিনড্রোম' নামক একটি জেনেটিক ব্যাধি, যা শরীরের সংযোগকারী টিস্যুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
তার জীবনের শুরুর দিকে তিনি স্বাভাবিক উচ্চতারই ছিলেন। ২২ বছর বয়সে রাজধানী আক্রার একটি কসাইখানায় কাজ করার সময় তিনি লক্ষ্য করেন যে তার জিহ্বা অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে যাচ্ছে এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। এরপরই তার শরীরের অন্যান্য অঙ্গ দ্রুত বড় হতে শুরু করে। এই শারীরিক পরিবর্তনের কারণে তিনি তার ড্রাইভার হওয়ার স্বপ্ন ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এছাড়া ফুটবল খেলার মতো শারীরিক সক্ষমতাও তিনি হারিয়ে ফেলেন।
আর্থিক সংকটের কারণে সুলেমান তার চিকিৎসা খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। তবে ঘানার প্রেসিডেন্ট জন মাহামার ভাই ইব্রাহিম মাহামা তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ইব্রাহিম মাহামা নিজেও গামবাগার এই দীর্ঘকায় ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং চলতি মাসের শুরুতেই তার পরিকল্পিত চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে আপডেট দিয়েছিলেন। সুলেমানের আত্মীয় কুদুস জানিয়েছেন, পায়ের ক্ষতের সাথে মারফান সিনড্রোমের সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও, এটি ওই রোগের একটি জটিলতা হিসেবেই দেখা দিয়েছিল।

