জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা সোনালি আঁশ পাট চাষে আবারও নতুন স্বপ্ন দেখছেন। বিগত কয়েক বছর দরপতন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জাগ দেওয়ার পানির সংকটে অনেক কৃষক পাট চাষ থেকে সরে এলেও এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত, উন্নত জাতের বীজ এবং কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এবার পাটের আবাদ লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে দুই হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের দুই হাজার ২০০ হেক্টর থেকে ৬৫০ হেক্টর বেশি।
স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ পাট চার হাজার থেকে চার হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো ফলন এবং ন্যায্য দাম পাওয়ায় কৃষকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। চরপাকেরদহ ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় তিনি এবার পাঁচ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন এবং ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। কৃষক মিজানুর রহমান জানান, পাটের পাশাপাশি পাটকাঠিরও ভালো চাহিদা থাকায় তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, সরকার পাট চাষে প্রণোদনা দিচ্ছে এবং পাটের ব্যবহার বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলাতেও পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। সেখানে তিন হাজার ১০৫ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে তিন হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। কৃষকরা প্রতি বিঘা জমিতে ১০-১১ মণ ফলন পাচ্ছেন এবং পাটকাঠি বিক্রি করে বাড়তি চার হাজার টাকা আয় করছেন। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার মতে, খরচ বাদে পাট চাষে কৃষকদের ৪০ শতাংশ লাভ হচ্ছে। কাজলা ইউনিয়নের কৃষক মোখলেছার রহমান আট বিঘা জমিতে বাম্পার ফলন পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
তবে লালমনিরহাটের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। সেখানে মৌসুমের শুরুতে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে পাটগাছের স্বাভাবিক উচ্চতা ব্যাহত হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাইখুল আরিফিন জানান, বন্যায় পাটগাছের উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে পাঁচ ফুট কমে যাওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে ৪০ থেকে ৬০ কেজি পর্যন্ত আঁশ উৎপাদন কম হয়েছে। তবে বাজারে নতুন পাটের দাম ভালো থাকায় কৃষকদের কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

