ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টা পরেই পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দিল্লির যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়া হাজার হাজার সমর্থক এই ঘটনাকে গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে অভিহিত করে উল্লাস প্রকাশ করছেন।
সিজেপি মূলত কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল নয়, বরং এটি একটি অনলাইন ব্যাঙ্গাত্মক প্রচারণা যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-জেনারেটেড তেলাপোকাকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে। সময়ের সাথে সাথে এটি তরুণ প্রজন্মের উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি অন্যতম দৃশ্যমান প্রতিবাদের রূপ নিয়েছিল, যা সোমবার পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিলে পুলিশের কঠোর ব্যবস্থার পর আরও বেগবান হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) হিন্দিতে দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, তরুণ প্রজন্মের আশা, স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং গত কয়েক দিনের ঘটনায় ব্যথিত হয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি আরও লেখেন, যন্তর মন্তর ও সারা দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে, জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে এবং কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় না পড়ে, তা নিশ্চিত করতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ার পর সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে যন্তর মন্তরের মঞ্চ থেকে আবেগঘন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, "আমরা সফল হয়েছি।" এ সময় উপস্থিত জনতা স্লোগান ও নাচের মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং একে অপরের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেন। দিনভর আন্দোলনের পর নেতারা স্থান ত্যাগ করলেও রাত পর্যন্ত অনেক সমর্থক সেখানে অবস্থান করছিলেন।
উল্লেখ্য, ভারতের প্রধান বিচারপতি যখন কিছু শিক্ষিত বেকার যুবককে সাংবাদিকতা ও সক্রিয়তার দিকে ঝুঁকে পড়াকে "তেলাপোকা" বলে অভিহিত করেছিলেন, তখন থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত। যদিও তিনি পরে জানিয়েছিলেন যে তিনি মূলত ভুয়া ও জাল ডিগ্রিধারীদের ইঙ্গিত করেছিলেন, ততক্ষণে "তেলাপোকা" শব্দটি আন্দোলনের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ৩০ বছর বয়সী রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ এবং বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র অভিজিৎ দীপকে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ইনস্টাগ্রামে ২৬ মিলিয়ন অনুসারী নিয়ে সিজেপি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে জবাবদিহিতা এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিল। গত ২৮ জুন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এই আন্দোলনে যোগ দিয়ে অনশন শুরু করলে এটি বৈশ্বিক মনোযোগ আকর্ষণ করে।

