প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ০০
সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক মো. আবুল হোসেন ওরফে এ এইচ এম ফারুকের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি সদর থানায় দায়ের করা দুটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব)। গত ৩০ আগস্ট মামলা দুটি দায়ের করা হলেও বিষয়টি সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ রয়েছে যে, মামলার তথ্য গোপন রেখে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তারের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার ক্র্যাবের দপ্তর সম্পাদক ইসমাঈল হুসাইন ইমু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল ও সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ্ এই হয়রানিমূলক মামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ক্র্যাব নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো পেশাদার সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের হয়রানি তারা মেনে নেবেন না এবং অবিলম্বে এসব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। সংগঠনটির মতে, ফৌজদারি মামলায় কাউকে আসামি করার আগে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে যাচাই করা আবশ্যক।
জানা গেছে, খাগড়াছড়ি সদর থানায় দায়ের করা মামলা দুটির একটি তথ্য প্রযুক্তি আইনে করা হয়েছে। এই মামলার বাদী খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত সদস্য এম এন আবছার, যিনি ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগও এনেছেন। তথ্য প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা অপর মামলার বাদী হলেন প্রফুল্ল ময় দত্ত ওরফে এইচ এম প্রফুল্ল, যিনি খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইয়ার সাবেক এপিএস হিসেবে পরিচিত।
এ বিষয়ে সাংবাদিক এ এইচ এম ফারুক জানান, তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা করছেন এবং বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম, রোহিঙ্গা সমস্যা ও ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে নিয়মিত কলাম লেখেন ও টকশোতে অংশ নেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, সম্প্রতি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়োগ এবং স্থানীয় অনিয়ম নিয়ে লেখালেখি ও প্রতিবাদ করায় তিনি প্রভাবশালী মহলের রোষানলে পড়েছেন। তিনি দাবি করেন, দলের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং এবং দুর্নীতিবাজ প্রভাবশালী নেতাদের স্বার্থে আঘাত লাগায় তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, এ এইচ এম ফারুক অতীতে দৈনিক ইনকিলাব, আলোকিত বাংলাদেশ, বাংলা টিভি, দৈনিক বাংলাদেশের খবর ও পরিবর্তন ডটকমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মানবাধিকার খবরের নির্বাহী সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেছেন এবং বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং সাংবাদিক হিসেবে কলাম ও উপসম্পাদকীয় লিখে যাচ্ছেন।

