নেপালে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে ১০ দিন ধরে একটি ২২৫ মিটার (৭৪০ ফুট) দীর্ঘ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা থাকার পর উদ্ধার হয়েছেন লু হাইতাও নামের এক চীনা নাগরিক। এই বন্যায় দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। উদ্ধারকারী দল শনিবার হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাকে সুড়ঙ্গ থেকে বের করে এনে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত আছেন।
গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসের কারণে এই বন্যার সূত্রপাত হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় এখনো প্রায় ৪,৯০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া সীমান্তের তিব্বত অংশেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ৩১ জন নিহত এবং ৫৩১ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে চীনা সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া শুক্রবার জানিয়েছে।
উদ্ধার হওয়ার পর লু হাইতাও জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভেতরে তিনি সবচেয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সিসিটিভির শেয়ার করা অডিও অনুযায়ী, উদ্ধারকারী দলের হুইসেল বা বাঁশির শব্দ তিনি শুনতে পেলেও প্রথমে তা নিজের মনের ভুল বলে মনে করেছিলেন। তিনি চীনা দূতাবাসের এক কর্মীকে জানান, উদ্ধারকারীরা যখন তার দিকে আলোর সংকেত দিচ্ছিলেন, তখন তিনি চিৎকার করে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বলেন, “তারা যখন আমার চোখের সামনে আলো ফেলল, আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। আমি তখন আর চিৎকার করছিলাম না, আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম।”
লু হাইতাওয়ের বোন লু হাইরং জানিয়েছেন, খবরটি পাওয়ার পর তিনি অবিশ্বাস্য মনে করলেও সংবাদের ছবিতে ভাইকে দেখে নিশ্চিত হয়েছেন। হেনান প্রদেশের বাসিন্দা ৪৯ বছর বয়সী লু হাইতাও বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক। তিনি মূলত একজন কৃষক ছিলেন এবং অবসর সময়ে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। তার বোন জানান, ফেব্রুয়ারিতে তিনি প্রথমবারের মতো কাজের সন্ধানে নেপালে গিয়েছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছিল। লু হাইতাওয়ের বোন জানান, তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর তার সঠিক কর্মস্থল সম্পর্কে জানতেন না এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের একটি পারস্পরিক সহায়তা গ্রুপে আসা সংবাদের ওপর নির্ভর করে দিন কাটাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, “এটি চরম দুর্ভাগ্যের মাঝে এক পরম সৌভাগ্য।”
লু হাইতাওয়ের চাচাতো বোন লু হাইকিং জানান, বন্যার ষষ্ঠ দিনে তিনি যখন জানতে পারেন যে লু নিখোঁজ, তখন তার মস্তিষ্ক যেন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল। তিনি প্রতিদিন নেপালের খবর খুঁজতেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নেপালি ভাষা থেকে চীনা ভাষায় অনুবাদ করতেন। জিউপাই নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি প্রতিদিন কাজে যাওয়ার পথে কান্নায় ভেঙে পড়তেন। শনিবার লু হাইতাওয়ের বোন তাকে একটি ছবি পাঠিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করতে বললে তিনি অন্য আত্মীয়দের সাথে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হন। তিনি বলেন, “এই দিনটির জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। হাল না ছাড়লে আশা থাকে।”

