প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ৫৮
লেইপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনায় রাশিয়াকে দায়ী করে জার্মানির নেওয়া সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে ‘বাস্তব যুদ্ধের সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। রোববার রুশ সংবাদমাধ্যম ভেস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। লাভরভ দাবি করেন, লেইপজিগ বিমানবন্দরে ইউক্রেনগামী কার্গো বিমানের কাছে ড্রোন উড়ানোর ঘটনার জন্য জার্মানি রাশিয়াকে দায়ী করলেও, এই ঘটনার কোনো যথাযথ তদন্ত করা হয়নি। ড্রোনটি কার ছিল তা জানার কোনো চেষ্টাই করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জার্মানির বর্তমান অবস্থানের সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুর দিকের পরিস্থিতির মিল খুঁজে পেয়েছেন। বিশেষ করে বন শহরে রাশিয়ার কনস্যুলেট জেনারেল বন্ধ এবং বার্লিনে রাশিয়ান হাউস বন্ধের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের খেলা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং তারা আবার যুদ্ধ চায়। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মেরৎসের নেতৃত্বাধীন সরকারের ইউরোপের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী’ গড়ার পরিকল্পনাকেও তিনি বিপজ্জনক বলে আখ্যা দিয়েছেন। লাভরভের মতে, মেরৎসের এই বক্তব্য মূলত রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল এবং তারা ইতিহাসের শিক্ষা থেকে কিছুই শেখেনি। এ বিষয়ে রাশিয়ার নেতৃত্ব উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলেও তিনি জানান।
এর আগে গত মঙ্গলবার জার্মানি আনুষ্ঠানিকভাবে লেইপজিগ বিমানবন্দরের ঘটনার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বন শহরে রাশিয়ার কনস্যুলেট জেনারেল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০১১ সালের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিচালনা সংক্রান্ত চুক্তি বাতিল এবং রাশিয়ায় কর্মরত জার্মান কূটনৈতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের যত দ্রুত সম্ভব দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে বার্লিন। ড্রোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে জার্মানি ও রাশিয়ার মধ্যে এই নতুন উত্তেজনা কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

