সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি সমাপ্ত ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের জন্য অভিযুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশের অফ-স্পিনার আলিস আল ইসলাম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিয়ম অনুযায়ী, রিপোর্ট হওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে তাকে অনুমোদিত কোনো ল্যাবে বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দিতে হবে। এর আগেই এই স্পিনারের সঙ্গে কাজ করার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সালাহউদ্দিন জানান, বোলিং অ্যাকশন সংশোধনের কারিগরি প্রক্রিয়ার চেয়ে এই মুহূর্তে আলিসকে মানসিকভাবে সমর্থন দেওয়াটাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
বিসিবি ইতোমধ্যে আইসিসিকে অবহিত করেছে যে পরীক্ষার জন্য আলিসকে ভারতের চেন্নাইয়ের ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে। অতীতে একাধিক বোলারের সন্দেহজনক অ্যাকশন নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে কোচ সালাহউদ্দিনের। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন ক্রিকেটারের জন্য মাঠে নামতে না পারার চেয়ে বড় কোনো কষ্ট হতে পারে না। তাই তাকে মানসিকভাবে সাপোর্ট দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অন্য দলের অনুশীলনে ব্যস্ত থাকায় গত দুদিন আলিসকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পেরে তিনি খারাপ বোধ করছেন বলেও জানান। তবে এই তরুণ বোলার দ্রুতই নিজের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে সালাহউদ্দিন বেশ আশাবাদী।
তবে অ্যাকশন শুধরাতে গিয়ে আলিসের বোলিংয়ের মূল কার্যকারিতা যেন নষ্ট না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করেছেন সালাহউদ্দিন। তার মতে, বোলিং অ্যাকশন বৈধ হলো ঠিকই কিন্তু আগের মতো বলের ধার বা কার্যকারিতা আর থাকল না, তবে এমন সংশোধনের কোনো অর্থ নেই। অতীতে কেবল জাতীয় দলের সাবেক স্পিনার আব্দুর রাজ্জাকই নিজের অ্যাকশন ঠিক করার পরও আগের মতোই কার্যকর থাকতে পেরেছিলেন। তাই আলিসকে মানসিকভাবে শক্তিশালী রাখার পাশাপাশি তার বোলিংয়ের কার্যকারিতা ধরে রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য বলে জানান এই কোচ।

