ত্রিশ ও চল্লিশের কোঠায় থাকা নারীদের মধ্যে শিংলস বা হারপিস জোস্টার রোগের প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। স্ট্রেস, জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং অতিরিক্ত শরীরচর্চাকে এই রোগের বিস্তারের অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। হেরিফোর্ডের ৩৯ বছর বয়সী স্বাস্থ্য সহকারী ফ্রান্সিন জোন্স তার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে জানান, তার শরীরে অনুভূত হওয়া বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো তীব্র ব্যথা ছিল অসহনীয়। মে মাসে তার শরীরের পেছনের অংশে বড় বড় ফোস্কা দেখা দেয়, যা দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয়েছিল। ব্যথার তীব্রতায় তিনি রাতে ঘুমাতেও পারতেন না।
২০১৯ সালের একটি মার্কিন গবেষণাপত্রে দেখা গেছে, ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী ব্যক্তিদের মধ্যে শিংলসের হার সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ছে। যদিও শিংলস সাধারণত বয়স্কদের রোগ হিসেবে পরিচিত, তবে বর্তমান ট্রেন্ড বলছে ভিন্ন কথা। শিংলস মূলত চিকেনপক্সের ভাইরাস থেকে হয়, যা শরীরে সুপ্ত অবস্থায় থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে। এনএইচএস-এর তথ্যমতে, প্রতি চারজনের মধ্যে একজন জীবনে অন্তত একবার শিংলসে আক্রান্ত হন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরুষদের চেয়ে ভিন্ন হওয়ায় তারা শিংলসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে ৫৬ শতাংশ এগিয়ে থাকেন। স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্ক আপস্টেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটির মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজির সহযোগী অধ্যাপক জেনিফার মোফাত জানান, আধুনিক জীবনযাত্রার চাপ, অস্বাস্থ্যকর খাবার, অপর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক অবসাদ তরুণীদের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে কর্মজীবী নারীদের ওপর পরিবারের দায়িত্ব ও কাজের চাপের সমন্বয় তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।
চিকিৎসক আদিল শেরাজ সতর্ক করে বলেন, শিংলসের লক্ষণগুলো দ্রুত শনাক্ত করা জরুরি। সংক্রমণের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ গ্রহণ করলে জটিলতা কমানো সম্ভব, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে রোগটি দেরিতে শনাক্ত হওয়ায় রোগীদের দীর্ঘমেয়াদী স্নায়বিক ব্যথায় ভুগতে হয়। এছাড়া কর্নিয়ার ক্ষতির মতো ঝুঁকিপূর্ণ জটিলতাও দেখা দিতে পারে, যেমনটা ঘটেছে ৪২ বছর বয়সী হেইলির ক্ষেত্রে। চিকিৎসকদের মতে, এখনকার সময়ে তরুণদের মধ্যে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াই শিংলস প্রতিরোধের প্রধান উপায়।

