স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে জোটসঙ্গীদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (২০ জুলাই) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জোটসঙ্গীদের বৈঠক ও নৈশভোজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে আইন হয়েছে। সেই আইনে কিন্তু দলীয়ভাবে নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই। তাই এ বিষয়টি নিয়ে এখন আলোচনা না করলেও চলে, তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে জোটসঙ্গীদের সঙ্গে পারস্পরিক আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
বৈঠকের পরিবেশ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারকে সরিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের সুযোগ এসেছে। দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে যারা বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে ছিলেন, তাদের সঙ্গে নিয়ে চলা এই দীর্ঘ পথচলায় অনেকেই কারাবরণ করেছেন, মামলার শিকার হয়েছেন, গুম ও খুনের মতো ঘটনাও ঘটেছে। সেই সংগ্রামের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে বৈঠকে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
মির্জা ফখরুল জানান, প্রধানমন্ত্রী জোটের সকলের সঙ্গে আন্তরিকতার সঙ্গে দেখা করেছেন। সরকার গঠনের শুরু থেকেই যারা প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন ও সহায়তা দিয়েছেন, তিনি তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এছাড়া দেশে ফিরে আসার পর সংসদীয় দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে নির্বাচনের সংগ্রাম পরিচালনা এবং টু-থার্ড মেজরিটি নিয়ে আসার জন্য প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক দলগুলোকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
সরকারের বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে কাজ শুরু হয়েছে। অর্থনীতি ধ্বংস করা হয়েছে, ব্যাংকগুলো লুট হয়েছে এবং সব জায়গায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছিল, তবে প্রধানমন্ত্রী এখন সেগুলো গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন যে, জোটের সঙ্গে একমত হওয়া ৩১ দফা কর্মসূচি সর্বশক্তি দিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে এবং জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।
