বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য ১৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। এই দলে ফিরেছেন নিয়মিত অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, পেসার জশ হ্যাজেলউড এবং অভিজ্ঞ স্পিনার নাথান লায়ন। চোট কাটিয়ে এই অভিজ্ঞ বোলিং ত্রয়ীর প্রত্যাবর্তন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে চেনা রূপ ফিরিয়ে এনেছে।
গত অ্যাশেজ সিরিজে চোটের কারণে এই তিন বোলার নিয়মিত খেলতে পারেননি। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে সেরে ওঠার সময় নতুন করে অ্যাকিলিস ইনজুরিতে পড়ে পুরো অ্যাশেজ মিস করেছিলেন হ্যাজেলউড। অন্যদিকে, অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টেস্টে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ার পর অস্ত্রোপচার করাতে হয় লায়নকে। এরপর থেকে তিনি আর কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেননি। অধিনায়ক কামিন্সও পিঠের নিচের অংশের স্ট্রেস ইনজুরি থেকে ফিরে কেবল অ্যাডিলেড টেস্টেই খেলেছিলেন। পরে অস্ট্রেলিয়া অ্যাশেজ ধরে রাখা নিশ্চিত করার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শেষ দুই টেস্টে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়। হ্যাজেলউড ও কামিন্স ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও খেলতে পারেননি, তবে আইপিএলের বিভিন্ন ধাপে তারা মাঠে ফিরেছিলেন।
ঘোষিত ১৩ সদস্যের এই দলটিতে রয়েছেন: প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), স্কট বোল্যান্ড, অ্যালেক্স ক্যারি, ক্যামেরন গ্রিন, জশ হ্যাজেলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিশ, মার্নাস লাবুশেন, নাথান লায়ন, স্টিভ স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, জেক ওয়েদারাল্ড এবং বিউ ওয়েবস্টার।
জাতীয় নির্বাচন প্যানেলের চেয়ারম্যান জর্জ বেইলি এই তিন তারকার ফিরে আসাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "প্যাট, জশ এবং নাথানের ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে নির্বাচন প্যানেল। চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরতে গত কয়েক মাসে তারা ব্যক্তিগতভাবে এবং স্পোর্ট সায়েন্স স্পোর্টস মেডিসিন দলের সাথে অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করেছেন।"
সিনিয়র পেসারদের প্রত্যাবর্তনে দল থেকে বাদ পড়েছেন মাইকেল নেসার ও ব্রেন্ডন ডগেট। অথচ অ্যাশেজের তিন টেস্টে ১৫ উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছিলেন নেসার। তবে নেসার, ডগেট এবং অফস্পিনার টড মারফি মূল দলের সাথেই অনুশীলন করছেন এবং যেকোনো মুহূর্তে ব্যাক-আপ হিসেবে তারা দলে ডাক পেতে পারেন। বেইলি আরও বলেন, "এটি ১৩ সদস্যের দল হলেও, ম্যাচের আগে যেকোনো পরিবর্তনের জন্য আমাদের খেলোয়াড়রা প্রস্তুত রয়েছেন। আগামী ১২ মাসে আমাদের যে পরিমাণ ক্রিকেট খেলতে হবে, তাতে সব ফরম্যাটেই অনেক খেলোয়াড়ের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।"
দলের ব্যাটিং লাইনেও কিছু পরিবর্তন দেখা যাবে। উসমান খাজার অবসর এবং ট্রাভিস হেডের ওপেনিংয়ে পদোন্নতির পর একাদশে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে থাকবেন দুই অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন ও বিউ ওয়েবস্টার। ব্যাক-আপ উইকেটরক্ষক জশ ইংলিশও মিডল অর্ডারে সুযোগ পাওয়ার জন্য লড়াই করবেন। অ্যাশেজে অভিষেক ঘটিয়ে মাত্র ২০১ রান করা জেক ওয়েদারাল্ডের ওপরই আস্থা রেখেছে অস্ট্রেলিয়া, হেডের সাথে তিনিই ইনিংস শুরু করবেন। অ্যাশেজে বাজে ফর্মের মধ্য দিয়ে যাওয়া মার্নাস লাবুশেনকেও দলে রাখা হয়েছে, যেখানে তিনি ২৮.৭৮ গড়ে মাত্র ২৫৯ রান করেছিলেন। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) অংশ এই সিরিজের প্রথম টেস্টটি অনুষ্ঠিত হবে ডারউইনে (১৩-১৭ আগস্ট) এবং দ্বিতীয় টেস্টটি হবে ম্যাকাইয়ে (২২-২৬ আগস্ট)। এই সিরিজের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার একটি দীর্ঘ ও ব্যস্ত মৌসুম শুরু হচ্ছে, যেখানে তারা আট মাসে মোট ১৪টি টেস্ট খেলবে। এই দীর্ঘ সূচির শেষ দিকে রয়েছে ভারত সফর এবং মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টেস্ট ক্রিকেটের ১৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ঐতিহাসিক টেস্ট। বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় ৮৭.৫০ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, যেখানে আট ম্যাচের মধ্যে সাতটিতেই জয় পেয়েছে তারা।
