মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি’ (এইচআরএসএস) সেপ্টেম্বর মাসের একটি মাসিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে সারা দেশের রাজনৈতিক সহিংসতা এবং মব ভায়োলেন্স বা গণপিটুনির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ৬৮টি ঘটনায় চারজন নিহত এবং ৫২৭ জনেরও বেশি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে গণপিটুনি বা মব সহিংসতার ৩৫টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন কারাগারে ২১ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ও নির্যাতনে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিত্যক্ত স্থান ও নদী-খাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৬৯টি লাশ। পাশাপাশি ৩৫ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।
নারীদের ওপর নির্যাতনের চিত্রও উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে বলা হয়, মাসজুড়ে সারা দেশে ২৩৬ জন নারী ও কন্যাশিশু ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ৭৯ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যার ৬০ শতাংশ বা ৪৭ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক। এছাড়া ১৩ জন নারী ও শিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং পাঁচজনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতায় মারা গেছেন ৪৩ জন নারী এবং নানা সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭৮ জন শিশু।
রাজনৈতিক সহিংসতার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলেই ৩৫টি ঘটনা ঘটেছে, যাতে একজন নিহত ও অন্তত ৩৪০ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সাতটি সংঘর্ষে ৬১ জন, বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মধ্যে ছয় সংঘর্ষে একজন নিহত ও ৪২ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া জামায়াত-আওয়ামী লীগের দুটি সংঘর্ষে একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। বিএনপি-এনসিপির মধ্যে তিনটি সংঘর্ষে ১৬ জন এবং অন্যান্য দলের সাথে সাতটি সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন দলের মধ্যে সাতটি ঘটনায় একজন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছেন। সামগ্রিকভাবে নিহত চারজনের মধ্যে আওয়ামী লীগের দুজন, বিএনপির একজন ও জামায়াতের একজন রয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে ৬৩টি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। যৌথ ও বিশেষ অভিযানে ২৮৭টি ঘটনায় অন্তত ২১ হাজার ২০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, সামাজিকমাধ্যমে মতপ্রকাশে বাধা, মব সহিংসতা ও কারা হেফাজতে মৃত্যু নাগরিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করছে। মানবাধিকার রক্ষায় সরকারকে দ্রুত জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

