ধর্মের ভিত্তিতে রাজনৈতিক বিভাজন কিংবা সংঘাত না করে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা কোনো করুণা নয়, বরং এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। মঙ্গলবার শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনের আটটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় এসব কথা বলেন তিনি।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শেখ রবিউল আলম উপস্থিত মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন, “এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার। আমরা ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি, বিভাজন, অনৈক্য কিংবা সংঘাত চাই না। আমরা সম্প্রীতি চাই, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাই। আমাদের সবার একটাই পরিচয়—আমরা এই দেশের মানুষ। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে মানুষের মধ্যে কোনো বিভাজন তৈরি হোক, তা আমরা চাই না।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার”—এই নীতির ভিত্তিতেই সবার অধিকার নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
নিজের নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দাদের প্রতি দায়িত্ববোধের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় জনগণ ভোট দিয়ে তাঁকে প্রতিনিধি নির্বাচন করেছেন। তিনি নিজেকে এই অঞ্চলেরই সন্তান, ভাই, বন্ধু ও প্রতিবেশী হিসেবে বর্ণনা করে জানান, এলাকার মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা তাঁর দায়িত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পূজা উদযাপনের পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও আনন্দমুখর পরিবেশে উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, “আমি আশা করি, আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে, আনন্দের সঙ্গে এবং নিজেদের অধিকার নিয়ে পূজা উদ্যাপন করছেন। কোথাও কোনো সমস্যা হলে কিংবা কারও নাগরিক অধিকার ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করলে আমাকে জানাবেন। আপনাদের অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব, এটি কোনো করুণা নয়।”
ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আলোকপাত করে শেখ রবিউল আলম জানান, এলাকার নানা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও সামাজিক সমস্যা চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের বয়স এখনো মাত্র আট মাস। এর মধ্যেই বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে চলেছে এবং সামনের দিনগুলোতে আরও দৃশ্যমান উন্নয়ন স্পষ্ট হয়ে উঠবে। পরিশেষে, অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে পরিবার, সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা, সমান অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করতে সরকার সর্বদাই সজাগ রয়েছে।
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০০: ৩০আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০০: ৩২

