মহাবিশ্বের অজানা রহস্য, বিশেষ করে ডার্ক এনার্জি ও ব্ল্যাক হোলের সন্ধানে নাসা তাদের নতুন প্রজন্মের শক্তিশালী টেলিস্কোপ মহাকাশে পাঠিয়েছে। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্থানীয় সময় রবিবার সকালে এই ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপটি উৎক্ষেপণ করা হয়। স্পেসএক্স-এর একটি ফ্যালকন হেভি রকেটের মাধ্যমে এটি মহাকাশে পাঠানো হয়েছে এবং উৎক্ষেপণের প্রায় ৩০ মিনিট পর রকেট থেকে টেলিস্কোপটি সফলভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের পথে রওনা হয়েছে।
এই টেলিস্কোপটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১০ লাখ মাইল দূরে একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে পৌঁছাবে। সেখানে পৌঁছাতে এর প্রায় ১০০ দিন সময় লাগবে। নাসা জানিয়েছে, টেলিস্কোপটির দেখার সক্ষমতা হাবল বা জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের তুলনায় ১০০ গুণ বেশি। নাসার প্রশাসক নিকি ফক্স বলেছেন, এই টেলিস্কোপ মহাবিশ্বকে দেখার আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেবে। এটি সৌরজগতের বাইরের অন্তত ১০ হাজার থেকে ১০০,০০০ নতুন গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে উৎক্ষেপিত জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ পৃথিবী থেকে ১০ লাখ মাইল দূরে থাকলেও এর দেখার পরিধি রোমান টেলিস্কোপের মতো বিস্তৃত নয়, অন্যদিকে ১৯৯০ সালে উৎক্ষেপিত হাবল টেলিস্কোপ পৃথিবী থেকে মাত্র ৩০০ মাইল উপরে অবস্থান করে।
প্রকল্পটির সাথে জড়িত নাসার ব্যবস্থাপক জ্যাকি টাউনসেন্ড উৎক্ষেপণটিকে 'চমৎকার' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সফল উৎক্ষেপণের জন্য নাসার বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। জ্যোতির্বিজ্ঞানী জেনিফার মিলার্ডের মতে, মহাকাশের ইনফ্রারেড আলো বা 'হিট লাইট' সংগ্রহের জন্য টেলিস্কোপটিকে পৃথিবী ও চাঁদ থেকে অনেক দূরে রাখা হচ্ছে, যাতে পৃথিবীর তাপীয় পরিবেশ এর পর্যবেক্ষণে কোনো বাধা সৃষ্টি না করে।
টেলিস্কোপটির নাম রাখা হয়েছে প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী ন্যান্সি গ্রেস রোমানের (১৯২৫-২০১৮) নামে, যিনি ষাটের দশকে (১৯৬০) নাসার প্রথম প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং প্রথম নারী নির্বাহী ছিলেন। হাবল টেলিস্কোপের পরিকল্পনায় তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে তাকে 'মাদার অফ হাবল' বলা হয়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি মহাবিশ্বের প্রায় ৯৫% গঠন করে, যার রহস্য উন্মোচনে এই টেলিস্কোপ কাজ করবে। ন্যান্সি গ্রেস রোমান টেলিস্কোপের প্রাথমিক আয়ুষ্কাল পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হলেও এটি ১০ বছর পর্যন্ত কাজ করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

