গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্দোলন গড়ে তুলতে রাজনৈতিক বয়ান ও কৌশলগুলোকে সামাজিক মূল্যবোধের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করার তাগিদ দিয়েছেন বক্তারা। রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এবং ফ্রেডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুং (এফইএস) বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মশালায় এই আহ্বান জানানো হয়। 'ট্রান্সফরমেটিভ চেঞ্জ মেকিং এন্ড পলিটিক্যাল স্ট্র্যাটেজি মেকিং' শীর্ষক এই কর্মশালায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের তরুণ নারী রাজনৈতিক কর্মীরা অংশ নেন।
কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বে সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী নির্বাচনী রাজনীতিতে নারীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে তাদের ন্যায্য অবস্থান নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অর্থবহ রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি কেবল সংখ্যার প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং নেতৃত্বদানে নারীদের সক্রিয় ও কার্যকর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করাও জরুরি। এই কর্মশালা তরুণ নারী কর্মীদের নেতৃত্বের সক্ষমতা ও ব্যবহারিক রাজনৈতিক দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এফইএস বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজার সাধন কুমার দাস অংশগ্রহণকারীদের সামনে তাদের দীর্ঘদিনের কার্যক্রম ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, জার্মান রাজনৈতিক ফাউন্ডেশন হিসেবে এফইএস এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে গণতন্ত্রীকরণ, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া বিশ্বজুড়ে ভূরাজনীতি, ভূঅর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন, শ্রম অধিকার ও গণতান্ত্রিক শাসন নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তরের কৌশলকে সমর্থন জোগাচ্ছে এই প্রতিষ্ঠান।
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন এফইএস বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টিটিভ ড. ফেলিক্স গের্ডেস। তিনি ট্রান্সফরমেটিভ পলিটিক্যাল চেঞ্জ ও কৌশলগত চিন্তাভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, সমাজের একটি বড় অংশ সাধারণত স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে চায় এবং পরিবর্তন গ্রহণে অনাগ্রহী থাকে। তবে তুলনামূলকভাবে ছোট একটি অংশই সামাজিক ও রাজনৈতিক রূপান্তরকে এগিয়ে নিয়ে যায়। জার্মানির উদাহরণ টেনে তিনি দেখান কীভাবে ব্যাপক নাগরিক সম্পৃক্ততা গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও সম্মিলিত পদক্ষেপকে শক্তিশালী করতে পারে।
সেশনে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে ড. ফেলিক্স গ্রেদেস দেখান কীভাবে সাধারণ কাঠামোগত ক্ষোভ বিভিন্ন পটভূমির মানুষকে একটি সাধারণ দাবিতে একত্রিত করেছিল। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা একটি ম্যাপিং অনুশীলনের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে চিহ্নিত করেন এবং অর্থনৈতিক উদ্বেগ থেকে শুরু করে জনসেবা সংক্রান্ত বিচ্ছিন্ন দাবিগুলোকে কীভাবে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক এজেন্ডার সঙ্গে যুক্ত করা যায় তা নিয়ে কাজ করেন। সবশেষে, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নারীদের অর্থবহ অংশগ্রহণ শক্তিশালী করা এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিসর সম্প্রসারণে কৌশলগত রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা ও সহযোগিতামূলক পদক্ষেপের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে কর্মশালাটি শেষ হয়।

